মালয়েশিয়ার দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। মাহাথিরের কার্যালয় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সিতি হাসমাহ। তাদের ছেলে মোখজানি মাহাথিরের বরাত দিয়ে মৃত্যুর খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
মাহাথিরের রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সময়ে সিতি হাসমাহ নিজস্ব পরিচয়েও ছিলেন মালয়েশিয়ায় জনপ্রিয় ও সম্মানিত একজন ব্যক্তি। শান্ত ও সাদাসিধে স্বভাব, আন্তরিকতা এবং হাস্যরসের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। স্বামীর তুলনামূলক কঠোর ও স্পষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার এই বৈশিষ্ট্যের ছিল বেশ ভিন্নতা।
রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সিতি হাসমাহ দেশের জনস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে কাজ করেছেন। বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতেও তাকে সরব ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে।
সাত দশকের দাম্পত্য জীবন
চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনার সময় ১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে সিঙ্গাপুরে মাহাথিরের সঙ্গে সিতি হাসমাহর পরিচয় হয়। পরে তাদের সম্পর্ক পরিণতি পায় বিয়েতে।
গত আগস্টে তারা দাম্পত্য জীবনের ৭০ বছর পূর্ণ করেন। দীর্ঘ এই পথচলায় তাদের সাত সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে ব্যবসায়ী মোখজানি মাহাথির, সমাজকর্মী মারিনা মাহাথির এবং রাজনীতিক মুখরিজ মাহাথির উল্লেখযোগ্য।
মাহাথির প্রায়ই তার রাজনৈতিক জীবন ও সাফল্যের পেছনে স্ত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে এমন এক সময়ে সিতি হাসমাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যখন মালয় সম্প্রদায়ের নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।
স্ত্রীর সেই দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়ের জন্য মাহাথির প্রকাশ্যে তার প্রশংসাও করেছেন।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
কেকে/সাশ