বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬,
৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত      ছয় ব্যাংকে আটকে আছে ডেসকোর ২৫০ কোটি টাকা      পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া      এনবিআরের পাঁচ অঙ্গীকার      কলকাতায় আগুনে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু      তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার      রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করব: মির্জা ফখরুল      
দেশজুড়ে
কুলিয়ারচরে সরকারি গাছ কাটার হিড়িক, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪২ এএম আপডেট: ২০.০৮.২০২৬ ১১:৪৫ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় সরকারি রাস্তা ও জায়গা থেকে মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকেরা।

গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার আগরপুর-ভাগলপুর সড়কের রামদী বড়চর ফিডমিল সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় হেলাল মুন্সির জমির সীমানা ঘেঁষে সরকারি রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকটি গাছ কেটে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, গাছগুলোর বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা।

গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, পার্শ্ববর্তী মনোহরপুর গ্রামের শহিদুল তাদের গাছগুলো কাটতে পাঠিয়েছেন। তবে গাছগুলো বিক্রির সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তারা কিছু জানাতে পারেননি।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার ও কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীনকে জানানো হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছ কাটা ও সরিয়ে নেওয়া বন্ধ করা হয়।

আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রায় ১০০ গজ দূরে সরকারি খাল ও রাস্তার পাশ থেকে ২০ থেকে ২৫টি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তৎকালীন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ অনুযায়ী, গাছগুলো বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গত ১৫ জানুয়ারি কুলিয়ারচর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৮টি গাছ চুরির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন নাছিমা আক্তার।

স্থানীয়দের দাবি, ওই অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি এবং এ নিয়ে দৃশ্যমান কোনো তদন্তও হয়নি। পরবর্তী সময়ে একই স্থান থেকে আরও তিনটি গাছ বিক্রি করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাতেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এরপর গত ২৪ থেকে ২৬ জুলাই একই স্থান থেকে আরও তিনটি মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা গাছ কাটার ভিডিও উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠালেও ২৬ জুলাই পুনরায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় অভিযোগ করা হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, গাছ কাটার ভিডিওতে শ্রমিকদের একজনকে ‘মাসুদ’ নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে গাছ কাটার কথা বলতে শোনা যায়।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, “সম্প্রতি বদলি হওয়া গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার লিখিত অভিযোগে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করেননি। পুলিশ আসামিদের নাম দিতে বললেও বাদী তা দেননি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে গত বছরের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর উপজেলার বাজরা মাছিমপুর এলাকায় সরকারি রাস্তা ও ঈদগাহ মাঠ থেকে পুরোনো জাম, আম ও রেন্টি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১৭ নভেম্বর এলাকাবাসী ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা গাছগুলো জব্দ করেন। পরে স্থানীয় সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কাইয়ুমের জিম্মায় গাছগুলো রাখা হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বাজরা মাছিমপুর খেলার মাঠের পাশের সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা ও ঈদগাহ মাঠে থাকা একটি রেন্টি, একটি আম ও একটি জামগাছ অনুমতি ছাড়াই কেটে বিক্রি করা হয়। তাঁদের দাবি, তিনটি গাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।

তবে গাছ বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা মাছিমপুর গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম লিটনসহ কয়েকজন গাছ বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, স্থানীয়দের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকারি রাস্তা ব্যবহারযোগ্য করতে গাছগুলো সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় মুরব্বি, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যকে অবহিত করা হয়েছিল বলেও তাদের দাবি।

তারা জানান, একটি জামগাছ, একটি রেন্টি ও একটি আমগাছের মূল্য ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বিক্রি করা হয়েছিল। পরে প্রশাসনের নির্দেশে গাছ কাটা ও সরিয়ে নেওয়া বন্ধ রাখা হয়। এ ঘটনায় নিজেদের ভুল স্বীকার করেন তারা।

এছাড়া গত ৭ ও ৮ মে বাজরা বাসস্ট্যান্ড থেকে কামালপুর যাওয়ার সড়কের মোড় থেকে একটি মূল্যবান রেন্টি গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। প্রায় ৮০ শতাংশ গাছ কাটার পর স্থানীয়দের বাধার মুখে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক কমিশনার শহিদ মিয়া ওই গাছটি কাটাচ্ছিলেন। তবে শহিদ মিয়া বলেন, গাছটি তাদের সীমানার মধ্যে তারাই রোপণ করেছিলেন। সড়কের পাশে গাছটির কারণে যানবাহন চলাচল ও দোকানদারদের সমস্যা হওয়ায় তিনি এটি কাটছিলেন।

সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। তাদের দাবি, শুধু বদলি নয়, সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তা ও প্রকৃত অপরাধীদের ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি রাস্তা ও জায়গা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি সম্পত্তি থেকে গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তকাজ চলছে।”


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  কুলিয়ারচর   সরকারি গাছ কাটা   প্রশাসনের ভূমিকা   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close