বগুড়ায় নিজ কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুল খালেক (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মারুফ হোসেন এ রায় দেন।
আদালত প্রতিষ্ঠার পর বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এটিই প্রথম রায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের প্রতি সহিংসতার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে এ আদালতটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল খালেক বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাগড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আলী আসগর।
মামলার বরাত দিয়ে পিপি আলী আসগর বলেন, ‘২০২০ সালের ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে খালেক তার ৯ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে মেয়েকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।’
আলী আসগর আরও বলেন, ‘ওই ঘটনার পর শিশুটির আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। সে বাড়ির কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার সৎ মা তাকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিশুটি সৎ বাবা কর্তৃক ধর্ষণের কথা জানায়। সে বিষয়টি বিশ্বাস না করে শিশুটির ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন।’
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌসুলি আরও বলেন, ‘নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে শিশুটি তার দুই সহপাঠীকে বিষয়টি জানায়। তাদের কাছ থেকে ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় অভিযোগ করেন। এরপর ভুক্তভোগীর মা (আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী) ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।’
পিপি আলী আসগর আরও বলেন, ‘মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শেষে আদালত আসামি আব্দুল খালেককে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পরে কড়া পুলিশ পাহারায় আসামীকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।’
কেকে/এআই