বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ১৮ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার      বিগত সরকারের প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে, রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রী      ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেলেও অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে : রাষ্ট্রপতি      ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন : প্রধানমন্ত্রী      রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা      সেপ্টেম্বরের শেষে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ হতে পারে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী      পলিথিন-প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      
দেশজুড়ে
জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা : সাতজনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৬ পিএম আপডেট: ২০.০৮.২০২৬ ৪:৪৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

জামালপুরের আলোচিত চাচা-ভাতিজা জোড়া হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রায় ১০ বছর পর রায় ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার সাখাওয়াত (৩২), মো. সোহেল (৩০), আল আমিন (৩০), সাদ্দাম (৩০), উজ্জল (৩০), অন্তর (৩০) ও ফয়জুর (৩২)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—চাঁন মিয়া (৫০), মো. জিয়ার (৪৫), শাহ আলম (৪১), কাওসার (২৯), রিফাত (৩১), সুমন (৩১) ও মোস্তফা (৪৯)।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ। মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে পুলিশ প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে ঠিকানা জানতে চায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে।

পরে জামিনে বের হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা—এমনটাই মামলার অভিযোগপত্র ও সাক্ষ্যে উঠে আসে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় সাখাওয়াত ও সোহেল। পরে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটখেতে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ওই পাটখেত থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মহর আলী (১৯) ছিলেন গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে ও স্থানীয় মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার ভাতিজা স্বপন মিয়া (১৬) একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। মামলায় ৪২ জনের মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

বিচার শেষে বৃহস্পতিবার আদালত সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আদালতের রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। দ্রুত রায় কার্যকরের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।”

আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন আমান উল্লাহ আকাশ, নওয়াব আলী ও নজরুল ইসলাম। চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ এর আগে দুইবার পেছানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


কেকে/সাশ 


আরও সংবাদ   বিষয়:  জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা    সাতজনের মৃত্যুদণ্ড  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close