আগামী ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। আর এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ সময়ে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি দিচ্ছেন ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ও চেম্বারকে আরও কার্যকর করার নানা প্রতিশ্রুতি।
জানা যায়, নির্বাচনে সভাপতি পদে তিনজন, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দুজন, সহ-সভাপতি পদে তিনজন, নির্বাহী সদস্য (সাধারণ গ্রুপ) পদে ১৮ জন এবং নির্বাহী সদস্য (সহযোগী গ্রুপ) পদে আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি সোহেল পারভেজ, নীলফামারী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড বিজনেস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (আইবিডব্লিউএফ) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ।
সভাপতি প্রার্থী মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘নীলফামারী সমৃদ্ধ একটি জেলা। সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে জেলাটিকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। বিগত দিনে চেম্বারকে জিম্মি করে শুধু স্বার্থ হাসিল করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘চিলাহাটি স্থলবন্দর বাস্তবায়ন এবং উত্তরা ইপিজেডে গ্যাস সরবরাহ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আমি মনে করি, আমাদের অভিভাবক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন জেলার উন্নয়নে কাজ করছেন। আমরা তাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, শিল্প-কলকারখানা স্থাপন এবং নীলফামারীকে ব্যবসায়িক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব।’
মাহবুব উর রহমান আরও বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিবার আপাদমস্তক ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের হয়রানি রোধে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
সভাপতি প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘নীলফামারী চেম্বার ব্যবসায়ীদের জন্য সেভাবে কাজ করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘নীলফামারী চেম্বারের যে রূপ থাকার কথা, আমি নির্বাচিত হলে সেই রূপে ফিরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করব। ব্যবসায়ীবান্ধব চেম্বার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের যে হক, সেটি পূরণের চেষ্টা করব।’
অপর সভাপতি প্রার্থী সোহেল পারভেজ বলেন, ‘নীলফামারী সম্ভাবনাময় একটি জেলা। ব্যবসায়িক অঙ্গন দারুণভাবে বিস্তারের সুযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা, পরামর্শ ও সাহস দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে জেলাটিকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং দ্রুত সেবা পান, তা নিশ্চিত করা গেলে চেম্বারের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আমি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।’
সোহেল পারভেজ আরও বলেন, ‘কৃষিনির্ভর জেলা হিসেবে নীলফামারীকে সমৃদ্ধ করতে চেম্বারের ভূমিকা রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে চেম্বারের ভূমিকা আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেব।’
তিনি বলেন, ‘চেম্বারের উদ্যোগে একটি বিদ্যালয় স্থাপন এবং শিক্ষা বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমি নির্বাচিত হলে আগামী বছর থেকে এই বৃত্তি চালু করা হবে।’
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও জেলা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সোয়েম বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চমৎকারভাবে চলছে। নির্বাচনি কোনো বিষয়ে বোর্ডের কাছে অভিযোগ আসেনি।’
তিনি বলেন, ‘শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে শহরের রাবেয়া বালিকা বিদ্যা নিকেতনে। এতে ৬৮৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।’
নির্বাচনে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আবু সালেহ সোহেল রানা বলেন, ‘ব্যবসায়ীবান্ধব একটি চেম্বার প্রতিষ্ঠায় আমার উদ্যোগ থাকবে। উত্তরা ইপিজেডে গ্যাস সরবরাহ, চিলাহাটি স্থলবন্দর চালু করা ছাড়াও শিল্প-কলকারখানা স্থাপনে চেম্বারকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হবে।’
চার সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পাশাপাশি নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তিন সদস্যের একটি আপিল বোর্ড রয়েছে। আপিল বোর্ডের প্রধান হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক জাফিরুল ইসলাম।
কেকে/ এমএস