শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬,
৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: রাষ্ট্রপতির শপথ-দায়িত্বভার গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি      নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা      রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ মির্জা ফখরুলের      প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হলেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত      কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন শপথ নেওয়া ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী      আপনার সাথে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছি : মির্জা ফখরুলকে ভারতের রাষ্ট্রপতি      রাষ্ট্রপতির শপথ শেষে বঙ্গভবন ছাড়ছেন অতিথিরা      
অর্থনীতি
চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সামনে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

২০২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। একদিকে প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা ও ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা; অন্যদিকে আসন্ন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন, বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক সংকটের অভিঘাত। সব মিলিয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) প্রকাশিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণের পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। বর্তমান মূল্যে জিডিপির মোট আকার প্রায় ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত সেবা খাত। জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৫২ দশমিক ০৯ শতাংশ। তবে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিও ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অন্যদিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি আরও উদ্বেগজনকভাবে কমে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমেছে। শিল্প খাতের এই মন্থরতা কর্মসংস্থান, নতুন বিনিয়োগ ও সামগ্রিক শিল্পায়নের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছে ব্যবসায়ী মহল।

বিনিয়োগ পরিস্থিতিও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। বর্তমানে জিডিপিতে বেসরকারি বিনিয়োগের অংশ মাত্র ২১ দশমিক ২ শতাংশ। বিনিয়োগের এই স্থবিরতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগের নিম্নমুখী প্রবণতা।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা মুডিস বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্রেডিট রেটিং ‘বি১’ থেকে কমিয়ে ‘বি২’ করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আস্থার সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ

অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি এখন মূল্যস্ফীতি। ২০২৬ সালের জুনে দেশের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। জুলাইয়ে তা কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। তবে এই হার এখনো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দামের চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট মূল্যস্ফীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে। আয় বৃদ্ধির তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।

ডিসিসিআইয়ের প্রতিবেদনে দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২২ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ হলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক চাপের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ আবারও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সাল নাগাদ আরও প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে বলেও প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড়

দেশের আর্থিক খাতও রয়েছে বড় ধরনের চাপে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে মোট ঋণের প্রায় ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ বা ৫ দশমিক ৫৭ ট্রিলিয়ন টাকা খেলাপি হয়ে পড়েছে।

খেলাপি ঋণের এই উচ্চ হার ব্যাংকগুলোর তারল্য, ঋণ বিতরণ সক্ষমতা এবং নতুন বিনিয়োগে অর্থায়নের সক্ষমতাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের ঘাটতি ও ঋণ আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। কিন্তু একই সময়ে সরকারের ব্যাংক ঋণ গ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সুযোগ কমছে। অর্থনীতিতে এই পরিস্থিতিকে ‘ক্রাউডিং আউট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বিনিয়োগে ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ আদায়ে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে ডিসিসিআই। পাশাপাশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) জন্য বরাদ্দকৃত প্রণোদনা প্যাকেজের সঠিক বাস্তবায়ন ও তদারকির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তৈরি পোশাক খাতে চাপ

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক শিল্পও এখন কঠিন সময় পার করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ০ দশমিক ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান বাজারগুলোতে রপ্তানির চাপ এবং চীন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা এ খাতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে সিন্থেটিক বা ম্যান-মেড ফাইবারের (এমএমএফ) ওপর শুল্ক কমানো এবং শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

চামড়া খাতে বিপুল সম্ভাবনা

রপ্তানি আয়ের দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত চামড়া শিল্প। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রায় ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়।

খাতটির আধুনিকায়ন, মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে চামড়া শিল্প থেকে বছরে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওষুধ শিল্পে আমদানিনির্ভরতা

দেশের ওষুধ শিল্প অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হলেও উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বা অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টসের (এপিআই) ক্ষেত্রে উচ্চ আমদানিনির্ভরতা রয়েছে। প্রায় ৮৫ শতাংশ এপিআই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর মেধাস্বত্ব বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (আইপিআর) সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই এখন থেকেই দেশীয় এপিআই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদার এবং মেধাস্বত্ব ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষিতেও কমছে প্রবৃদ্ধি

কৃষি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হলেও এই খাতেও প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। ২০২৬ অর্থবছরে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ফসল নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ যুবকদের শহরমুখী হওয়ার কারণে কৃষিতে শ্রমিক সংকটও বাড়ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলবায়ু-সহনশীল বীজের ব্যবহার বাড়ানো, কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আইসিটিতে সম্ভাবনা, দক্ষতার ঘাটতি

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তবে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি এবং দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা এ লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রতিবেদনে কেবল প্রচলিত আইটি সেবা নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইনসহ উচ্চমূল্যের প্রযুক্তিনির্ভর কাজের দিকে বাংলাদেশের মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি বলে মনে করছে ব্যবসায়ী মহল।

লজিস্টিকস ব্যয়ও বড় বাধা

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমানোর অন্যতম কারণ উচ্চ লজিস্টিকস ব্যয়। বাংলাদেশে লজিস্টিকস খরচ জিডিপির প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এই ব্যয় অনেক বেশি।

লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্সে ১৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। বন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, অটোমেশন, দ্রুত পণ্য খালাস এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে লজিস্টিকস ব্যয় কমানো সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বড় পরীক্ষা

বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন। ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

এর ফলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে পাওয়া বাণিজ্যিক সুবিধার একটি অংশ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়নেও চ্যালেঞ্জ

২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ দশমিক ৩৮ ট্রিলিয়ন টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। এতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ২ শতাংশ। তবে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো অত্যন্ত কম। ফলে বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে কোম্পানি নিবন্ধন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করা, মুনাফা এক দিনের মধ্যে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর মতো বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবও বাজেটে রয়েছে।

‘৩আর’ কৌশলে জোর

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে দ্রুত কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন বলে মনে করছে ডিসিসিআই। সংগঠনটির প্রস্তাবিত ‘৩আর’ কৌশলের মধ্যে রয়েছে—Stabilize বা স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, Restore বা আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং Drive বা প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।

অর্থনীতির বর্তমান সংকট মোকাবিলায় শুধু সাময়িক নীতিগত পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, খেলাপি ঋণ আদায়, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি, শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য কৌশল নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

ডিসিসিআইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, দ্রুত সংস্কার, নীতি-সামঞ্জস্য এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কঠিন হবে। স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে পারলেই বাংলাদেশের অর্থনীতি আবারও টেকসই উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে পারবে।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  বাংলাদেশের অর্থনীতি   বহুমুখী চ্যালেঞ্জ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

অর্থনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close