জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় স্ত্রীকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। স্বামীর মারধরে গুরুতর আহতের আট দিন পর হাসপাতালে চিকিৎধীনে মারা যান স্ত্রী মাছুদা বেগম (২৭)।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বছির মন্ডল বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ রাতেই অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করে শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে হাজতে পাঠায়।
স্বামী মেহেদী হাসান শাপলা উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারুঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ প্রামানিকের ছেলে। নিহত গৃহবধূ মাছুদা বেগম ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া খাঁপাড়ার মৃত দিলবর মন্ডলের মেয়ে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) দিপেন্দ্র নাথ সিংহ।
জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। সংসারে ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই ছিল। এরমধ্যে তাদের বিচ্ছেদও হয়। বিচ্ছেদের একবছরের মাথায় তারা আবারও বিবাহ করেন। এরইমধ্যে গত ১৪ আগস্ট দুপুরে মাছুদার মেয়ে বাড়িতে না থাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাঁধে।
একপর্যায়ে স্ত্রীকে বেদম মারধর করেন মেহেদী হাসান। স্ত্রী মাছুদা বেগম জ্ঞান হারিয়ে ঘরের মেঝেতে গুরুত্বর আহত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে না হওয়ায় ওই দিনই তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে মাছুদা বেগম মারা যান।
মামলার বাদী বছির মন্ডল বলেন, ‘আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি বোন হত্যার বিচার চাই।’
দিপেন্দ্র নাথ সিংহ বলেন, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাছুদা বেগমের মৃত্যু হয়। নিহতের ভাই মামলা দায়ের করেছে। রাতেই নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান শাপলাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।’
কেকে/এমএ