সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি ও শুভ জন্মাষ্টমী আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)। দিনটি উপলক্ষে সারাদেশে নানা ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। অন্যায়, অসত্য ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে তার জন্মতিথি জন্মাষ্টমী হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পূজা, প্রার্থনা, কীর্তন, আলোচনাসভা ও প্রসাদ বিতরণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
জন্মাষ্টমী উদযাপনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন। দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও থাকছে নানা আয়োজন।
জন্মাষ্টমীর প্রধান আকর্ষণ শোভাযাত্রা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।
শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত রুটে চলাচলকারী যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে পিকেট ও টহল পার্টির পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, ফুট প্যাট্রল, রুফটপ পার্টি, হোন্ডা মোবাইল, ডিবি ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা দল মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে শোভাযাত্রায় হ্যান্ডব্যাগ, ট্রলি, বড় ভ্যানিটি ব্যাগ, পোঁটলা, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, অস্ত্র, কাঁচি ও ক্ষয়কারক তরল না নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জন্মাষ্টমী উদযাপনকে কেন্দ্র করে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন কিংবা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কোনো মহল যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা, পুরোহিত ও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায়ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নকারী তথ্য, গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি চিহ্নিত করতে সাইবার পেট্রলিং জোরদার করা হয়েছে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানিও বিতরণ করা হয়।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সত্য, ন্যায়, মানবতা ও কল্যাণের প্রতীক। বিশ্বে ধর্মীয় কারণে সংঘাত, হানাহানি ও বিভেদ বাড়তে থাকায় এ সংকট মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব হিন্দু ও সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, শ্রীকৃষ্ণ তার জীবন ও কর্মের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়, সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় মানবপ্রেম ও ন্যায়ের আদর্শ তুলে ধরেছেন। সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা সব নাগরিকের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কেকে/ এমএস