নামাজে সিজদা বান্দার জন্য আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভের সময়গুলোর একটি। এ কারণে সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যখন সিজদায় থাকে, তখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। সুতরাং তোমরা সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।’ (সহিহ মুসলিম)
সিজদায় গিয়ে প্রথমে ‘সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা’ পড়ার পর আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। নিজের প্রয়োজন, গুনাহের ক্ষমা, হেদায়েত, রিজিক, সুস্থতা, বিপদ থেকে মুক্তি এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য দোয়া করা যায়।
সিজদায় পড়ার জন্য হাদিসে বিভিন্ন দোয়া বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো—
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ، دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি যাম্বি কুল্লাহু, দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমার সব গুনাহ ক্ষমা করুন—ছোট-বড়, প্রথম ও শেষের সব গুনাহ।
এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো সংক্ষিপ্ত দোয়াও সিজদায় পড়া যায়—
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي
উচ্চারণ: রব্বিগফির লি ওয়ারহামনি।
অর্থ: হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি রহম করুন।
তবে দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। বান্দা আন্তরিকভাবে দোয়া করবে এবং কবুলের ব্যাপারে আশাবাদী থাকবে। কোনো দোয়ার ফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যেতে পারে, আবার কোনো দোয়ার বিনিময়ে আল্লাহ বিপদ দূর করতে পারেন কিংবা তা আখিরাতের জন্য সঞ্চিত রাখতে পারেন।
তাই নামাজের সিজদাকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার বিশেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
কেকে/সাশ