জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা অনলাইনকে টক্সিক (বিষাক্ত) করে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি বলেছেন, ‘জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বিষাক্ত ও অশালীন ভাষায় বিরোধীদের সমালোচনা করছে। অথচ তারা নিজেদের ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করে। ইসলামের আদর্শে যদি তারা রাজনীতি করে, তাহলে তাদের আচরণেও ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা উচিত।’
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সভায় নুরুল হক আরও বলেন, ‘আমরা বইয়ে পড়েছি আল্লাহর নবী (সা.) যে পথ দিয়ে হেঁটে যেতেন, এক বৃদ্ধা সেই পথে কাঁটা দিয়ে রাখতেন। একদিন সেই পথে কাঁটা দেখতে না পেয়ে আল্লাহর নবী (সা.) ওই বৃদ্ধার খোঁজ নিতে গেলেন। গিয়ে দেখলেন, তিনি অসুস্থ। তখন তিনি ওই বৃদ্ধার সেবা-যত্ন করে সুস্থ করে তুললেন। তার ব্যক্তিত্ব ও ব্যবহারের মাধ্যমে ওই বৃদ্ধার মন জয় করেছিলেন। ওই বৃদ্ধাও নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘ইহুদি, খ্রিষ্টান ও অন্য ধর্মাবলম্বীরাও আল্লাহর নবীর কাছে তাদের আমানত রেখে যেতেন। তার ওপর তাদের এতটাই আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। আজ জামায়াত যদি ইসলামী রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে তাদের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিত্ব ও আচরণও তো সে রকম হওয়ার কথা।’
জামায়াত-শিবিরের অনলাইন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নুর বলেন, ‘একজন ব্যক্তি পাঁচটি আইডি খুলে ফজরের নামাজ পড়ে অন্যের কমেন্টে গিয়ে গালিগালাজ করবে, বিকেলে আবার সেই কমেন্টের জবাব দেবে, ঘুমাতে যাওয়ার আগে আবার আরেকটি কমেন্ট করবে; এই যদি জামায়াতের ইসলামী আদর্শের রাজনীতি হয়, তাহলে সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে অনেকে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু বিএনপির লোকজন কেন জামায়াতে যাবে? তারা কি জামায়াতের মতো কোনো উগ্রপন্থী দল করতে যাবে? আমি আগেও বলেছি, জামায়াতকে শুধু একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখলে হবে না। এটি একটি কমিউনিটি এবং বিশ্বের অনেক দেশে এ ধরনের উগ্রপন্থী দলের একটি নেক্সাস রয়েছে।’
কেকে/এমএ