বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● চার জেলায় নতুন ডিসি      ● এক দিন বেড়ে দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, প্রধানমন্ত্রী বাড়ালেন অনুদানও      ● দেশে হামে মৃত্যু ছাড়ালো ১১০০      ● ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, সর্বোচ্চ আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে      ● হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু      ● একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ১৩ প্রকল্প অনুমোদন      
দেশজুড়ে
প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দ্বন্দ্বে শিক্ষার্থীশূন্য বালিকা বিদ্যালয়
কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের জজিরা নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি একসময় ছাত্রীদের পদচারণায় মুখর থাকলেও বর্তমানে সেখানে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। শ্রেণিকক্ষে পড়ে আছে সারি সারি খালি বেঞ্চ। শিক্ষক, ভবন ও খেলার মাঠ—সবই আছে, নেই শুধু শিক্ষার্থী।

খাতাকলমে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে তাদের উপস্থিতি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শিক্ষার্থী না থাকায় নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ওরফে হিরু মাস্টারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ এবং দুর্নীতির নানা অভিযোগের কারণে অভিভাবকরা বিদ্যালয়টি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। মাসে মাত্র একদিন বিদ্যালয়ে এসে পুরো মাসের শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির শূন্য পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই। যদিও হাজিরা খাতায় শিক্ষার্থীদের নাম ও উপস্থিতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাজিরা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতির ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে স্থানীয় অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের বিরোধও বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে কোনো ম্যানেজিং কমিটিও নেই বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী রিপন ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ চতুর্থ শ্রেণির শূন্য পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। আমিও তাদের একজন। এখন চাকরি দিচ্ছেন না, টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। তিনি বিদ্যালয়ে মাসে একদিন আসেন।’

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টিকে বাঁচাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, স্থানীয় কয়েকজন বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করেই তাদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য তিনি নিজের কোনো দায় দেখছেন না।

এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশ্রাফুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে এবং আবারও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হবে জজিরা নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:   শিক্ষার্থীশূন্য বিদ্যালয়   মাদারীপুর  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close