কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় একটি বসতবাড়ির পানির ট্যাংকে চেতনানাশক বা বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে চুরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচ সদস্য এবং পাশের বাড়ির স্বামী-স্ত্রীসহ মোট সাতজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বদেবত্তর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থরা হলেন—পূর্বদেবত্তর গ্রামের অনিল চন্দ্র রায় (৫৫), তার স্ত্রী শান্তনা রানী রায় (৪৫), মেয়ে অর্পিতা রানী রায় (১৫), ছেলে চন্দন কুমার রায় (৩০), চন্দনের স্ত্রী পূজা রানী রায় (২২), পাশের বাড়ির মাধব চন্দ্র রায় (৪২) ও তার স্ত্রী শিল্পী রানী রায় (৩২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা চুরির উদ্দেশ্যে কৌশলে ওই বাড়ির পানির ট্যাংকে চেতনানাশক বা বিষাক্ত কোনো দ্রব্য মিশিয়ে দেয়। পরে রাতের খাবার ও দৈনন্দিন কাজে ওই পানি ব্যবহারের কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সদস্যরা এবং প্রতিবেশী দম্পতি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা তন্দ্রাচ্ছন্ন ও অচেতন হয়ে যান।
পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ার সুযোগে রাত আনুমানিক ৪টার দিকে দুর্বৃত্তরা চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় চন্দন কুমার রায় তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ঘরে চোরের উপস্থিতি টের পান। পরে তিনি চোরকে ধাওয়া করলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
তবে ওই সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চারপাশ অন্ধকার ছিল। ফলে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ভোররাতে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে বাড়িতে গিয়ে অচেতন অবস্থায় সাতজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের ধারণা, চুরির উদ্দেশ্যেই পানির সঙ্গে চেতনানাশক বা বিষাক্ত কোনো দ্রব্য মেশানো হয়ে থাকতে পারে।
তবে পানির ট্যাংকে ঠিক কী ধরনের দ্রব্য মেশানো হয়েছিল এবং অসুস্থতার প্রকৃত কারণ কী—তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কেকে/সাশ