ট্রেনে জুস পানে যাত্রীকে অজ্ঞান করার ঘটনায় হাতে নাতে ফুল মিয়া (৫৬) নামের ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সৈয়দপুর রেলস্টেশনে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের তার দেহ তল্লাশী করে যাত্রীর কাছ থেকে ছিনতাই করা মোবাইল সেট ও টাকা উদ্ধার হয়।
পুলিশ জানায়, ফুল মিয়ার বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে। তিনি ট্রেনের যাত্রীকে জুস পানের মাধ্যমে অজ্ঞান করে টাকা ও মোবাইল সেট হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।
বুধবার ভোরে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী চলন্ত সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঙ’ বগির ৩৪ নম্বর সিটের যাত্রী হাজী মফিজুর রহমানকে জুন পান করে অজ্ঞান করেন। হাজী মফিজুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার হেলাফেলা গ্রামের একজন ব্যবসায়ী।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলস্টেশন পার হওয়ার পর বিষয়টি টহলরত পুলিশের নজরে এলে তাৎক্ষণিক পাশের আসনে বসে থাকা ফুল মিয়াকে আটক করে তার দেহ তল্লাশী করা হয়। এসময় তার কাছে ভুক্তভোগীর টাকা ও মোবাইল পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে ফুল মিয়া ওই যাত্রীকে জুস পানে অজ্ঞান কথা স্বীকার করেন। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন থেকে নম্বর সংগ্রহ করে স্বজনদেকে খবর দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, ‘এ ঘটনায় রেলওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। অজ্ঞান পাটির হোতা ফুল মিয়ার নামে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তির জ্ঞান ফিরলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট একই ট্রেনে দুই নারী যাত্রীকে (মা-মেয়ে) জুস পানে অজ্ঞান করে স্বর্ণের কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেওয়ার সময় অপর যাত্রীদের হাতে আটক হন ফুল মিয়া। এসময় ফুল মিয়ার কাছে থাকা জুস তাকে পান করালে তিনি নিজেও অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ভুক্তভোগী ওই যাত্রীরা হলেন দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের অশ্বনী রায়ের স্ত্রী কৌশলা রায় (৫৩) ও মেয়ে বীথি রানী রায় (২৯)। ওই ঘটনায় কৌশলা রায়ের ছেলে রবীন্দ্র নাথ রায় বাদী হয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
কেকে/এআই