শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন। জেলার সব কোচিং সেন্টার বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ সব সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন।
সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার।
সভায় জেলার সার্বিক শিক্ষা পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে কমে যাওয়া উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে তাদের মনোযোগ বাড়াতে শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার কোনো কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা যাবে না। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা স্কুলে মোবাইল ফোন নিয়ে আসতে পারবে না।
সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়মুখী পরিবেশ তৈরিতে শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়।
সভা পরিচালনা করেন সদর উপজেলার অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার এনএম বদরুজ্জামান তালুকদার। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ বেগম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুল হক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জয়নুল আলম তালুকদার।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো, কোচিংনির্ভরতা কমানো এবং শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত উপস্থিতি ও শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কেকে/এআই