বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ১৮ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার      বিগত সরকারের প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে, রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রী      ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেলেও অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে : রাষ্ট্রপতি      ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন : প্রধানমন্ত্রী      রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা      সেপ্টেম্বরের শেষে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ হতে পারে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী      পলিথিন-প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      
প্রিয় ক্যাম্পাস
৮৮ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে রজতজয়ন্তীতে শেকৃবি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ পিএম আপডেট: ০৯.০৯.২০২৬ ১১:০২ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

সবুজ ফসলের মাঠ, মেঠোপথের মায়াবী নীরবতা আর পাখির কিচিরমিচির—রাজধানীর দুরন্ত কোলাহলের মাঝেও যেন এক টুকরো গ্রাম এসে আশ্রয় নিয়েছে এখানে। ইট-পাথরের নগরীর বুকে প্রকৃতির এই নিবিড় সান্নিধ্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে (শেকৃবি) করে তুলেছে অনন্য। এটি শুধু উচ্চশিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান নয়; বরং ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা এক ‘শহুরে গ্রাম’, যেখানে জ্ঞান, প্রকৃতি ও কৃষির মেলবন্ধনে প্রতিদিন রচিত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার গল্প।

আগামী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দীর্ঘ ৮৮ বছরের ঐতিহ্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২৫ বছরের অভিযাত্রায় শেকৃবি দেশের কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের এক গুরুত্বপূর্ণ বাতিঘর হয়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে কৃষির চাহিদা, বদলেছে চ্যালেঞ্জ; আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গেই তাল মিলিয়ে শেকৃবির জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার পরিসরও হয়েছে বিস্তৃত।

১৯৩৮ থেকে আজকের বিশ্ববিদ্যালয়

কৃষিশিক্ষার প্রয়োজন ও দেশের কৃষির উন্নয়নের ভাবনা থেকেই ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের হাত ধরে ৩০০ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’। ১৯৪১ সালে ইংল্যান্ডের রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সিলেবাস অনুসরণ করে শুরু হয় অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে চালু হওয়া বিএসসিএজি কোর্সের প্রথম ব্যাচ ১৯৪৩ সালে বাংলার প্রথম কৃষি গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বের হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৫১ সালে স্নাতকোত্তর শিক্ষা চালুর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার পরিসর আরও বিস্তৃত করে।

দেশভাগের পর নাম বদলে হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’ এবং স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’। সেই দীর্ঘ পথচলারই পরিণত অধ্যায় ২০০১ সালে। জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ৪৬ নম্বর আইনের মাধ্যমে ১৫ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ‘শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’। ১৯৩৮-’র সেই কৃষিশিক্ষার প্রাঙ্গণ আজ ২৫ বছরের বিশ্ববিদ্যালয়—ঐতিহ্যের শেকড়কে ধারণ করে জাতীয় কৃষির নতুন চাহিদা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিগন্তে এগিয়ে চলা এক আধুনিক উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

অনুষদ ও আবাসিক হল

প্রতিষ্ঠার ৮৮ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এখন বহুমাত্রিক জ্ঞানচর্চার এক বিস্তৃত পরিসর। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অ্যাকাডেমিক কাঠামোয় রয়েছে ৪টি অনুষদ ও ৩৫টি বিভাগ। এসব অনুষদে কৃষি, কৃষি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি মেডিসিন এবং মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান—কৃষির প্রায় পুরো পরিসরজুড়ে শিক্ষা ও গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে  ৩৭৫-’র বেশি শিক্ষক এবং ৫ হাজার ৩৯৩-’র বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন ও গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কৃষি অনুষদে ১৪টি বিভাগে ২১৩ শিক্ষক ও ৩ হাজার ৩৩৩ শিক্ষার্থী রয়েছে। কৃষি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা অনুষদের ৫টি বিভাগে রয়েছেন ৫৭ শিক্ষক ও ৮৪৮ শিক্ষার্থী।  প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ১০টি বিভাগে ৭৩ শিক্ষক ও ৮৬৩ শিক্ষার্থী এবং মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান অনুষদের ৬টি বিভাগে ৩২ শিক্ষক ও ৩৪৯ শিক্ষার্থী শিক্ষা ও গবেষণায় নিয়োজিত।
 
শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের আবাসিক জীবনকেও গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। শতভাগ আবাসিক এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে ৭টি আবাসিক হল—এর মধ্যে ৪টি ছাত্রদের এবং ৩টি ছাত্রীদের জন্য।
 
শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষা ও গবেষণার বিস্তৃত পরিসর

শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি শেকৃবির পুরো ক্যাম্পাসজুড়েই রয়েছে হাতে-কলমে শেখা ও গবেষণার সুযোগ। কেন্দ্রীয় গবেষণা খামার, হর্টিকালচার ফার্ম, ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল, ডেইরি ও পোল্ট্রি ফার্ম, মিনি জু, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, ড. কাজী এম. বদরুদ্দোজা রিসার্চ সেন্টার, Fab Lab ও Research and Innovation Centre (RIC) শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করছে। গবেষণা খামার ও হর্টিকালচার ফার্মে বিভিন্ন ফসলের মাঠপর্যায়ের গবেষণা, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষাবাদ পরিচালিত হচ্ছে।

আর এসব গবেষণার জ্ঞানভিত্তি সমৃদ্ধ করছে ছয়তলা পৃথক ভবনে প্রায় ৩৮ হাজার ৮৮০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার—বই, জার্নাল, থিসিস, ই-রিসোর্স ও ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে। গ্রন্থাগারটি আরএফআইডি প্রযুক্তিনির্ভর পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় পরিচালিত। এখানে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ৪৫ হাজারের বেশি মুদ্রিত বই, ৪ হাজার ২২০টি থিসিস, ১৩৮টি মুদ্রিত জার্নাল, পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসের ই-জার্নাল ও ই-বুকের সুবিধা রয়েছে। 

এ ছাড়াও SAUL Archive ও Digital Archive-এর মাধ্যমে গবেষণাপত্র, থিসিস ও জার্নাল সংরক্ষণ করা হচ্ছে। TEEAL-এর মাধ্যমে কৃষিবিষয়ক প্রায় ২৫ লাখ পৃষ্ঠার গবেষণা প্রবন্ধ এবং OpenAthens-এর মাধ্যমে রয়েছে রিমোট ই-অ্যাক্সেস সুবিধা।

শিক্ষার্থী সহায়তা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম

শেকৃবিতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তির পাশাপাশি সহশিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রমেও রয়েছে বিস্তৃত সুযোগ। প্রতি সেমিস্টারে সব শিক্ষার্থী ন্যূনতম ১ হাজার ২০০ টাকা বৃত্তি পান; প্রথম ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী পান ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সিজিপিএ ৪ অর্জনকারীরা পান ১ হাজার ৮০০ টাকা। এর বাইরে শেকৃবি ট্রাস্ট, ফাতেমা আজিম মেমোরিয়াল, কামাল মমতাজ ট্রাস্ট, কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়া বৃত্তিসহ বিভিন্ন বৃত্তি চালু রয়েছে। গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ৫৫ হাজার টাকা পর্যন্ত গবেষণা অনুদানসহ বিভিন্ন সহায়তার সুযোগও রয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টির বেশি ছাত্র সংগঠন ও ক্লাব শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্র তৈরি করছে। বিজ্ঞান, বিতর্ক, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, কম্পিউটার, ভাষা ও আলোকচর্চার পাশাপাশি ‘বাঁধন’-এর মতো সংগঠন নিয়মিত মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে; সংগঠনটির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৫০০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ ও দান করা হয়। বহিরাঙ্গন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, মাঠ দিবস, বীজ-চারা বিতরণ ও কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুর্যোগকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ত্রাণ ও কৃষি উপকরণ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান। ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালেও সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে পোষ্য প্রাণীর চিকিৎসাসেবা পান।

গবেষণা ও জ্ঞানসৃষ্টিতে শেকৃবির বিস্তার

৮৮ বছরের ঐতিহ্য আর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২৫ বছরের পথচলায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিসর আজ বহুমাত্রিক। বিশ্ববিদ্যালয়টির ১০ হাজার ৯৬৭-এর বেশি অ্যালামনাই, ১৬৯ জনের বেশি গবেষক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এ পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে ৭ হাজার ৮৭টির বেশি গবেষণা,  প্রকাশিত হয়েছে ৭হাজার ৮৬টির বেশি বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা, যার মধ্যে ১হাজার ৮২৫টির বেশি Scopus-indexed publication। পাশাপাশি এমএস, পিএইচডি ও পোস্টডক পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে ৪ হাজার ১৩২টির বেশি থিসিস।
 
এ গবেষণা সক্ষমতার স্বীকৃতিও মিলেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। Research.com Ranking ২০২৫–২৬-এ বাংলাদেশে প্রথম এবং বিশ্বে ২৩৯তম অবস্থান অর্জন করেছে শেকৃবি। এ র‌্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শীর্ষ গবেষকের ৬৬০টি গবেষণা প্রকাশনা ও সম্মিলিত ১৬৫ H-Index বিবেচনায় এসেছে। পাশাপাশি THE Interdisciplinary Science Ranking 2026-এ ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে, QS Asia University Rankings 2026-এ ৮০১–৮৫০ ব্যান্ডে এবং SCImago Institutions Rankings 2026-এ বাংলাদেশে ৩৪তম অবস্থান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। 

গবেষণার সাফল্য শুধু প্রকাশনা ও র‌্যাংকিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়; মাঠ ও মানুষের ব্যবহারোপযোগী ৩০টির বেশি ফসলের জাত ও মাছের নতুন প্রজাতি এবং ২৫টির বেশি কৃষি ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন**ও এর উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। সাউ সরিষা, পেরিলা, ভুট্টা, কিনোয়া, টমেটো, মিষ্টি আলু, ব্রোকলি ও ফুলের নতুন জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি বায়োফ্লক, মাছ থেকে খাদ্যপণ্য, অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত মুরগির মাংস, বায়োগ্যাস, মৌচাষ ও জাফরান উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। 

সাম্প্রতিক উদ্ভাবনের তালিকায় যুক্ত হয়েছে সাউ স্মার্ট ড্রায়ার, স্মার্ট সিকিউরিটি ডিভাইস, সাউ মিনি কোল্ড স্টোর, ফ্লোটিং ফিশ ফিড মিল, রেডি-টু-কুক ইলিশের জ্যাম-জেলি, সোলার লাইট ট্র্যাপ এবং বাড়িতে স্পিরুলিনা চাষ পদ্ধতি । ফলে শেকৃবির গবেষণা এখন গবেষণাগার থেকে মাঠ, খাদ্য থেকে মৎস্য, কৃষি থেকে স্মার্ট প্রযুক্তি—বিস্তৃত পরিসরে বাস্তব প্রয়োগের পথ তৈরি করছে।

প্রায় দুই বছরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর গত প্রায় দুই বছরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। একাডেমিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি কোটা পদ্ধতি বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গবেষণাকে প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকারে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণায় প্রণোদনা, পিএইচডি ফেলোশিপ এবং তরুণ গবেষকদের উৎসাহিত করার নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এই সময়ের অন্যতম বড় অর্জন আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি। প্রথমবারের মতো QS Asia ও Times Higher Education (THE) Ranking-এ শেকৃবির অন্তর্ভুক্তি এবং Research.com Ranking-এ বাংলাদেশে প্রথম স্থান** অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরের পথচলায় শেকৃবির অর্জনের পাশাপাশি অবকাঠামো, জনবল, গবেষণা অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শিক্ষক–শিক্ষার্থী অনুপাতের মতো কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব মনে করেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেই এগিয়ে যেতে হবে। 

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান অবকাঠামো, জনবল এবং গবেষণা খাতে ব্যয় দুর্বল ও অপর্যাপ্ত থাকার কারণে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবু আমরা নিরুৎসাহ না হয়ে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছি, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা ও গবেষণায় আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়।’

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘২৫ বছরের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শেকৃবি শিক্ষা ও গবেষণায় যে ভিত্তি তৈরি করেছে, এখন সেটিকে আরও বিস্তৃত করার সময়। আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে গবেষণার মান ও পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলে গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তুলতে চাই।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ ইতিহাস ও সক্ষমতাকে ভিত্তি করে শেকৃবিকে আগামী দিনের কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের নেতৃত্বদানে সক্ষম একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলাই প্রশাসনের লক্ষ্য।’

সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আধুনিক সুযোগ তৈরি করে তিনি শেকৃবির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  ঐতিহ্য   রজতজয়ন্তী   শেকৃবি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

প্রিয় ক্যাম্পাস- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close