পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্য একদম স্পষ্ট—মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন। তবে প্রত্যাবাসন মানে কেবল সীমান্ত পার হওয়া নয়। এমন একটি জায়গায় ফিরে যাওয়া, যেখানে মানুষ নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থার সঙ্গে বাঁচতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যাবাসন টেকসই করতে মিয়ানমারে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লাখেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে। দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, জনসেবা, স্থানীয় সম্প্রদায় ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর বিশাল চাপ পড়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ এ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে।’
‘বাংলাদেশ তার মানবিক দায়িত্ব ও মানবিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে মানবিক দায়িত্বকে যেন সীমাহীন দায়িত্ব হিসেবে ভুল করা না হয়।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি। একইভাবে এ সংকটের সমাধানের দায়িত্বও বাংলাদেশের একার নয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু সংহতি প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অংশীদারিত্বমূলক দায়িত্ব ও টেকসই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার অর্থায়ন অবশ্যই নিশ্চিত ও ধারাবাহিক হতে হবে। আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও অর্থবহ সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।
মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনাও এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার দিকে কেন্দ্রীভূত করতে হবে, যা মূলত রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির প্রধান কারণ ছিল বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক সহায়তা কেবল বাস্তুচ্যুতির পরিণতিগুলোকে সামাল দেয়। একমাত্র একটি রাজনৈতিক সমাধানই এ বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটাতে পারে।’
সেমিনারে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশে রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
কেকে/ এমএস