বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬,
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মন্থর, রিজার্ভ-রেমিট্যান্সে স্বস্তি       ● প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমছে       ● বাংলাদেশকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে পাকিস্তান      ● ফেনীর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      ● একদিনের সফরে ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী      ● প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার      ● অক্টোবরে জ্বালানি তেলের দামে সুখবর, বাড়ছে না দাম      
খোলাকাগজ স্পেশাল
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মন্থর, রিজার্ভ-রেমিট্যান্সে স্বস্তি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম আপডেট: ০১.১০.২০২৬ ১১:০২ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি অতিমাত্রায় চাপ কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার আভাস দিয়েছে। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি সামগ্রিকভাবে এখনো মন্থর। বিদায়ী অর্থবছরে রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে বহিঃখাত তুলনামূলকভাবে অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরেছে। অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণ প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা, বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি এবং শিল্প খাতের ধীরগতি অর্থনীতির ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। ফলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে নীতিগত সমন্বয় ও সংস্কারের প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ উত্তরণ এখনো ধীর ও সতর্ক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি : ২০২৫-২৬ অর্থবছর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে অর্থনীতির এ চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাথমিক হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছর ছিল সামষ্টিক অর্থনৈতিক সমন্বয় থেকে ধীরগতির পুনরুদ্ধারের পথে উত্তরণের একটি সময়। এ সময়ে বৈদেশিক খাতের সহনশীলতা বৃদ্ধি ছিল অর্থনীতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিক। তবে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দুর্বলতা, বিনিয়োগে স্থবিরতা, উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতির চাপ অর্থনীতির পূর্ণ পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করেছে। 

এমসিসিআই বলছে, অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা গেলেও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে মূল্যস্থিতি বজায় রাখা, আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করা, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। 

অর্থনীতির আকার ও মাথাপিছু আয় : 

চলতি বাজারমূল্যে বাংলাদেশের জিডিপির আকার ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ৫০১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে এর আকার ছিল ৪৫৬ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু জিডিপিও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাথাপিছু জিডিপি ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৮৬৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে। আগের অর্থবছরে এটি ছিল ২ হাজার ৬২৫ ডলার। একই সময়ে মাথাপিছু জাতীয় আয় বা জিএনআই ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ২০ ডলারে পৌঁছেছে।

কৃষিতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার নিচে খাদ্য উৎপাদন : 

অর্থবছর ২০২৫-২৬-এ কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও খাদ্যশস্য উৎপাদন সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। এ সময়ে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ, আগের অর্থবছরে যা ছিল ২ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ সময়ে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। চাল ও গম মিলিয়ে খাদ্যশস্য উৎপাদন ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৩৭৫ লাখ টন বা ৪৩ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে দাঁড়ানোর প্রাক্কলন করা হয়েছে। তবে সরকারের নির্ধারিত ৪ কোটি ৫৩৯ লাখ টন বা ৪৫ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন টনের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উৎপাদন ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ কম।

শিল্পে ধীরগতি, নির্মাণে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস : 

অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির গতি আরও কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। তারল্যসংকট, উচ্চ ঋণব্যয়, জ্বালানি সংকট ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তায় উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে সতর্ক থাকায় উৎপাদন খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৩১ শতাংশে নেমেছে। বৃহৎ শিল্পে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। তবে নির্মাণ খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস মিলেছে। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ হয়েছে।

সেবা খাতে সামান্য গতি : 

জিডিপির সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে থাকা সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, আগের অর্থবছরে ছিল ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিডিপিতে সেবা খাতের অংশ ৫২ দশমিক ০৯ শতাংশ। জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। তবে আর্থিক ও বিমা কার্যক্রমে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬১ শতাংশে সীমিত রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি কমলেও স্বস্তি নেই : 

মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও তা এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুনে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। তবে এক বছর আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো বেশি। ২০২৫ সালের জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।

রপ্তানিতে প্রায় স্থবিরতা : 

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে তেমন গতি দেখা যায়নি। ইপিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৮ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ০ দশমিক ১৭ শতাংশ। এ আয় সরকারের নির্ধারিত ৫৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ০৪ শতাংশ কম। প্রতিবেদনে দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদা, উচ্চ জ্বালানি ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপকে রপ্তানির ধীরগতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রেমিট্যান্সে রেকর্ড : 

অর্থনীতির বৈদেশিক খাতে সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা ছিল প্রবাসী আয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় উৎস সৌদি আরব। দেশটি থেকে এসেছে ৫ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ১৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৫ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার বা ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার বা ১২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জিসিসিভুক্ত দেশগুলো থেকে মোট রেমিট্যান্সের ৪৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ এসেছে।

বৈদেশিক লেনদেনে বড় উদ্বৃত্ত : 

রেমিট্যান্সের প্রবাহ এবং বৈদেশিক খাতে তুলনামূলক স্থিতিশীলতার কারণে লেনদেন ভারসাম্যে বা ব্যালান্স অব পেমেন্টসে (বিওপি) বড় ধরনের উদ্বৃত্ত হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিওপিতে রেকর্ড ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। তবে চলতি হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে। আগের অর্থবছরের ১৩৮ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি বেড়ে ১ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ২৭ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত বেড়ে ৭ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। এর বড় অংশ এসেছে বহুপক্ষীয় ঋণ ও বাণিজ্য ঋণ থেকে।

রিজার্ভ বেড়েছে : 

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উন্নতি হয়েছে। জুন শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে। এক বছর আগে এ রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। আগের বছর একই পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থবছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ০ দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজার থেকে নিট ৬ দশমিক ৪২৬৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে। আগের অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিট ৫০৩ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছিল।

বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধিতে নিম্নগতি : 

অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডের দুর্বলতার বড় একটি সূচক বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আগের অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।

বিনিয়োগেও সংকোচন : 

জিডিপির অনুপাতে মোট বিনিয়োগ কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। মোট বিনিয়োগের মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। একই সময়ে দেশজ সঞ্চয়ের হার কমে হয়েছে ২১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ২১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। উচ্চ সুদহার, তারল্যসংকট, জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সমস্যা এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এফডিআই কমেছে ১৫ শতাংশ : 

দেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহও দুর্বল হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিট বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা এফডিআই ১৫ দশমিক ০২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৬৫ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। প্রতিবেদনে অবকাঠামো ও জ্বালানি সংকট, নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, শিল্পজমির স্বল্পতা, দুর্নীতি এবং বিধিবিধানের অস্বচ্ছ প্রয়োগকে বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি : 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়েছে।  তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে আদায় অনেক কম হয়েছে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা বা ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ।

বিদেশি সহায়তা কমেছে, ঋণ পরিশোধ বেড়েছে : 

অর্থবছরে বৈদেশিক সহায়তার ছাড়ও কমেছে। বৈদেশিক সহায়তার ছাড় ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ৩৭ দশমিক ০২ শতাংশ কমে ৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিপরীতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  অর্থনৈতিক   কর্মকাণ্ড   মন্থর   রিজার্ভ   রেমিট্যান্স  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close