বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর কাফরুল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনে নিহত তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। কলিমুল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর কোনো রাজনৈতিক পদ নেই। তিনি একজন অধ্যাপক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই কারণেই তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। তিনি আদালতকে বলেন, কলিমুল্লাহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষকতা—কোনো সময়ই তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। উপাচার্য থাকাকালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করার কারণে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমি ভিসি থাকাকালে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থী আবু সাঈদ আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ছিল। সাঈদ হত্যার প্রতিবাদ করেছি, কথা বলেছি। আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু নই।”
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত বছরের ৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। সেদিনই তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান কলিমুল্লাহ। পরে এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির। অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না থাকায় তার কারামুক্তির পথ তৈরি হয়েছিল।
তবে গত ৩০ জুলাই ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এতে তার মুক্তি আটকে যায়। পরে ওই মামলাতেও তিনি জামিন পান।
এর মধ্যে গত ৭ সেপ্টেম্বর তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় কাফরুল এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন তরিকুল ইসলাম রুবেল। ওইদিন রাত ৮টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তরিকুল ইসলাম রুবেল নিহত হন। পরে এ ঘটনায় কাফরুল থানায় মামলা করা হয়।
কেকে/সাশ