বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্টের রায়      হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে      ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী      ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সময়সীমা দিলেন ট্রাম্প      ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোটগ্রহণ ২৯ অক্টোবর      মহাখালীতে পুরাতন ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট      ভোট টানতে ট্রাম্পের চমক, প্রত্যেক মার্কিনকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা      
জাতীয়
অপব্যবহারের সুযোগ রেখে সাইবার আইন হবে না : তথ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, “সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। তবে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে এমন কোনো শব্দ বা বিধান রাখা হবে না, যার সুযোগ নিয়ে গণমাধ্যম বা অন্য কারও কণ্ঠ দমন করা যায়।”

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের বিষয়টি এখনো খসড়া প্রণয়ন ও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। আইনের কিছু শব্দের একাধিক অর্থ হতে পারে। এ কারণে শব্দগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।”

আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, “আগে একটি অধ্যাদেশ ছিল। পরে সেটির কিছু বিষয় বাদ দিয়ে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি কীভাবে করা যায়, সে চেষ্টা চলছে। তবে এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।”

তিনি বলেন, “এমন কিছু কিছু শব্দ রয়েছে, যেগুলো দ্বৈত অর্থ বহন করে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থেকে শুরু করে অন্যান্য কিছু আইন সংবাদমাধ্যম বা সংবাদপত্রকে দমিয়ে রাখা কিংবা অপব্যবহারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে গত ১৭ থেকে ২০ বছর ধরে।”

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, কোনো আইন শুধু বর্তমান সময়ের জন্য করা হয় না। তাই আইনের কোনো শব্দ বা বিধান ভবিষ্যতে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে কি না, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে তাদের সঙ্গে আরও আলোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, “আইনের কোনো শব্দের ব্যাখ্যার কারণে গণমাধ্যম বা অন্য কারও ওপর যাতে আইনটির অপব্যবহার না হয় কিংবা কোনো ধরনের ক্ষতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে সরকার।”

আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, “সরকারের মূল লক্ষ্য সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জনমতকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কৃত্রিমভাবে কোনো প্রচারণা ছড়ানো বন্ধ করা। সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণতন্ত্রের নামে গালিগালাজ, অপমানজনক ভাষা ও নানা ধরনের অপব্যবহার দেখা যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, এসব বিষয় কীভাবে আইনের আওতায় আনা যায়, আবার একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে দুটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়েই আলোচনা চলছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছি যে কোনোভাবেই এই আইন এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে না, যাতে কারও কণ্ঠ নিপীড়ন, পীড়ন বা দমনের জন্য এটি ব্যবহার করা যায় কিংবা আমরা আগে যে ধরনের অপব্যবহার দেখেছি, তার পুনরাবৃত্তি ঘটে। আমরা এখনও খসড়া প্রণয়ন ও আলোচনার পর্যায়ে আছি।”

এ সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সাইবার সুরক্ষা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সাংবাদিকেরা অংশ নেন। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনে বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। মেটা, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “আমাদের মূল বিষয় হলো, কীভাবে এসব কনটেন্টের ক্ষতিকর দিকগুলো বন্ধ করা যায়। আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন, বিভিন্ন কনটেন্ট নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। আবার এমনও হচ্ছে যে এসব কনটেন্ট দেখে অনেক পরিবারে অশান্তি তৈরি হচ্ছে। অনেক পরিবারে আত্মহত্যার প্রবণতার কথাও আমরা শুনতে পাচ্ছি। এসব কনটেন্টের বিষয়ে আমরা খুবই সিরিয়াস।”

তিনি বলেন, মুদ্রিত গণমাধ্যমের সঙ্গে সাইবার সুরক্ষার বিষয়টির পার্থক্য রয়েছে। মুদ্রিত গণমাধ্যমের কার্যক্রম এক ধরনের, আর সাইবার সুরক্ষার বিষয়টি ভিন্ন। তাই সাইবার জগতে যেসব কনটেন্ট ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে, সেগুলো নিয়েই মূলত আলোচনা করা হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আরও বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় আবারও বৈঠক ডাকা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়নের লক্ষ্যেই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  সাইবার আইন   তথ্যমন্ত্রী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close