বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার প্রতিদিন দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকে। প্রকৃতির এ অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল হোটেল-মোটেল জোন। আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে কক্সবাজারের এক অনন্য পরিচিতি থাকলেও, মূল সৈকত বালিয়াড়ির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের প্রধান ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শতাধিক বেওয়ারিশ কুকুর ও খোলা অবস্থায় ঘুরে বাড়ানো গরু-ছাগলের বিচরণ। প্রাকৃতির রূপ উপভোগ করতে এসে বালিয়াড়িতে পশুদের এমন অবাধ চলাচল দেখে অবাক হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক সুজন বলেন, ‘সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করা এক দারুণ অনুভূতি। কিন্তু সৈকতে চলাচলের সময় বেওয়ারিশ কুকুর ও গরুর মুখোমুখি হতে হয়, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশ্বমানের একটি পর্যটন কেন্দ্রের বালিয়াড়ি যদি পশুর বিচরণভূমি হয়, তবে তা পর্যটনের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।’
একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক জাহেদ। তিনি বলেন, ‘সৈকত থাকবে একদম নিরাপদ ও উন্মুক্ত। কিন্তু যেখানে-সেখানে ক্ষিপ্ত কুকুর ঘুরে বেড়ালে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। বিশেষ করে সঙ্গে থাকা শিশুদের যদি কোনো বেওয়ারিশ কুকুর আক্রমণ করে, তবে তার দায় কে নেবে? বিচ ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
পর্যটকদের অভিযোগ, জেলা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির দীর্ঘদিনের উদাসীনতা ও কার্যকর নজরদারির অভাবই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। প্রতিনিয়ত সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে কুকুর ও গবাদিপশুর উৎপাত বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে চোখে পড়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নেই।
স্থানীয় সচেতন মহল ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দ্রুত সৈকত বালিয়াড়ি থেকে এসব কুকুর ও গবাদিপশু সরিয়ে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা না গেলে তা দেশি-বিদেশি পর্যটক কমানোর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পর্যটন খাতের সুনাম রক্ষায় দ্রুত বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
কেকে/এআই