বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬,
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● বাংলাদেশকে ৯ গোল দিয়ে আসিয়ান কাপের ফাইনালে ইন্দোনেশিয়া      ● স্বৈরাচার-গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী      ● যাত্রা শুরু করল বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’      ● ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৯৭৮      ● হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২১৪      ● সংরক্ষিত আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা      ● অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারায় কিছু দল : প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
কাঁচি-চিরুনিই যার জীবনের সঙ্গী, ৭০-এও কর্মচঞ্চল প্রতুল
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ পিএম আপডেট: ১১.০৯.২০২৬ ২:১৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বয়সের ভারে শরীর নুয়ে এসেছে। হাতেও আগের মতো জোর নেই। চোখের দৃষ্টিও কমেছে কিছুটা। তবু সকাল হলেই কাপাসিয়া বাজারের পরিচিত সেই কোণে বসে পড়েন প্রতুল শীল। সামনে সাজানো থাকে কাঁচি, চিরুনি আর শেভিংয়ের সরঞ্জাম। বয়সকে হার মানিয়ে আজও মানুষের চুল-দাড়ি কাটেন তিনি।

প্রতুল শীলের বয়স এখন ৭০ বছর। অথচ তার কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল মাত্র ১৩ বছর বয়সে। ছোট থাকতেই বাবাকে হারান তিনি। বড় ভাইয়ের আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা প্রতুলকে অল্প বয়সেই মুখোমুখি হতে হয় সংসারের কঠিন বাস্তবতার। পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে তখনই হাতে তুলে নেন কাঁচি-চিরুনি।

শুরুতে কোনো দোকান ছিল না। কাঁচি-চিরুনি সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে মানুষের চুল কাটতেন। বিনিময়ে কখনো টাকা, আবার কখনো মিলত খাবার। এভাবেই জীবিকার তাগিদে কেটে যায় তাঁর শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময়।

প্রতুল শীল বলেন, “১৩ বছর বয়সে কাজ শুরু করি। ছোট থাকতেই বাবা মারা যান। বড় ভাই আমাকে লালন-পালন করেছেন। পরে সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতে হয়েছে। তাই এই কাজ শুরু করি।”

দীর্ঘদিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ করার পর একসময় কাপাসিয়া বাজারে স্থায়ীভাবে বসতে শুরু করেন তিনি। এরপর বাজারের সঙ্গে তার সম্পর্কও হয়ে ওঠে দীর্ঘস্থায়ী। এক প্রজন্মের পর আরেক প্রজন্ম—বহু মানুষের চুল-দাড়ি কেটেছেন প্রতুল।

তার স্মৃতিতে জমে আছে অসংখ্য মুখ। যাদের ছোটবেলায় চুল কেটেছেন, সময়ের পরিক্রমায় তাদের সন্তানরাও এসেছে তার কাছে। কারও বয়স বেড়েছে, কেউ আবার চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। পুরোনো ক্রেতাদের সঙ্গে কাটানো সেই দিনগুলোর স্মৃতি এখনো মনে রেখেছেন প্রবীণ এই নরসুন্দর।

বর্তমানে চুল কাটতে নেন ৪০ থেকে ৫০ টাকা। শেভের পারিশ্রমিক ২০ টাকা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এই সামান্য আয় দিয়েই কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

প্রতুল বলেন, “শেভ করি ২০ টাকা, চুল কাটি ৪০-৫০ টাকা। এই আয় দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলে।”

এই পেশার আয় দিয়েই এক ছেলে ও দুই মেয়েকে বড় করেছেন প্রতুল। সংসারের খাবার থেকে শুরু করে সন্তানদের প্রয়োজন—সবকিছুর পেছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের শ্রম ও সংগ্রাম।

তবে সময় বদলেছে। কাপাসিয়া বাজারে এখন গড়ে উঠেছে আধুনিক সেলুন। সেখানে রয়েছে নানা ধরনের প্রসাধনী ও আধুনিক সাজসজ্জার ব্যবস্থা। তরুণদের বড় একটি অংশও এসব সেলুনমুখী। সেই পরিবর্তনের মধ্যেও পুরোনো কাঁচি-চিরুনি আঁকড়ে নিজের জায়গায় টিকে আছেন প্রতুল।

এখন দীর্ঘ সময় কাজ করা তার জন্য কঠিন। কখনো হাত কাঁপে, আগের মতো দ্রুত কাজও করতে পারেন না। তবু পুরোপুরি কাজ ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ ৫৫ বছর ধরে যে পেশা তাঁর সংসারের ভরসা, আজও সেটিই তার প্রধান অবলম্বন।

প্রতুল শীলের জীবন তাই কেবল একজন নরসুন্দরের কর্মজীবনের গল্প নয়; এটি অভাবের সঙ্গে লড়াই, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব এবং শ্রমের মাধ্যমে টিকে থাকার দীর্ঘ ইতিহাস। ১৩ বছর বয়সে যে কিশোর জীবিকার সন্ধানে কাঁচি হাতে নিয়েছিল, ৭০ বছর বয়সেও সেই কাঁচিই তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী।

কাপাসিয়া বাজারের কোলাহলের মধ্যেই প্রতিদিন নীরবে চলে তার কর্মযাত্রা। সামনে কাঁচি-চিরুনি, পাশে পুরোনো স্মৃতি—আর পেছনে ফেলে আসা ৫৫ বছরের শ্রমময় জীবন।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  গাজীপুর   নাপিত   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close