শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: লালবাগে পাঁচতলা ভবনের নিচে মাটি খুঁড়ে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ      কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট আবার খুলে দেওয়া হলো      চার ক্যাচের খেসারত, ভারতের কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের      বিএনপির হাতে শুরু বিএনপিতেই বিলুপ্তি      লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে আমরাই আগে করতাম : প্রধানমন্ত্রী      হাম ও ডেঙ্গুতে একদিনে ১৩ জনের মৃত্যু      ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৪৯২      
দেশজুড়ে
একদিনে দুই গুদামে অভিযান, ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৯ পিএম আপডেট: ১১.০৯.২০২৬ ৩:০১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার গুদামে পড়ে থাকলেও মাঠে সারের সংকট—এমন অভিযোগের মধ্যেই দিনাজপুরের খানসামায় সার ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। একদিনে উপজেলার দুটি সার ডিলারের গুদামে অভিযান চালিয়ে ৬৫৭ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাকেরহাট ও টংগুয়া বাজার এলাকায় উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়।

অভিযানের প্রথম ধাক্কা পড়ে পাকেরহাটের ‘মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স’-এর গুদামে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মহিতোষ চন্দ্র চন্দ একজন বিএডিসি নিবন্ধিত সার ডিলার। প্রশাসনের অভিযানে তাঁর গুদামে অনুমোদিত সীমার বাইরে মজুত রাখা ৪৫০ বস্তা সার পাওয়া যায়।

এর মধ্যে নোয়াপাড়া গ্রুপের ক্রয় করা ৩০০ বস্তা মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি), বিএডিসি গ্রুপের ৫০ বস্তা এমওপি এবং ১০০ বস্তা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) রয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মহিতোষ চন্দ্র চন্দকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এরপর অভিযান চলে টংগুয়া বাজারের বিসিআইসি অনুমোদিত রাসায়নিক সার ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্স’-এ। সেখানেও বিপুল পরিমাণ সার পাওয়া যায়।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির ডিলার আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ডিলার পয়েন্টটি পরিচালনা করছিলেন। অভিযানে গুদাম থেকে ২০৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৯৪ বস্তা ডিএপি, ৫৫ বস্তা ইউরিয়া ও ৫৮ বস্তা এমওপি সার রয়েছে।

অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

দুটি অভিযানে জব্দ করা মোট ৬৫৭ বস্তা সার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এসব সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হবে। বিক্রয়লব্ধ পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ও সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের লক্ষ্য। কোনো ডিলার অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কিংবা কৃষকদের হয়রানি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিতভাবে সার ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে তদারকি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান মেনে চলার জন্য ডিলারদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। কৃষকের স্বার্থে নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

একদিনে দুটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ এবং জরিমানার ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এখন প্রশাসনের বাজেয়াপ্ত সার দ্রুত ও সঠিক মূল্যে প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছায় কি না—সেদিকেই নজর স্থানীয় কৃষকদের।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  সার মজুত   জব্দ   দিনাজপুর   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close