বৃষ্টি এলেই ঘরের চাল চুইয়ে পানি পড়ত। কোথাও ফুটো দিয়ে, কোথাও ভাঙা টিনের ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকত বৃষ্টির পানি। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সেই জরাজীর্ণ ঘরেই বছরের পর বছর কষ্টে দিন কাটছিল ৬১ বছর বয়সী দিনমজুর শৈলেন মোদকের। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে নতুন ঘর নির্মাণ ছিল তার কাছে অনেকটাই স্বপ্নের মতো।
অবশেষে সেই স্বপ্নের ঘর পেয়েছেন শৈলেন। তার দুরবস্থার কথা জানতে পেরে পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি নেতা ও নারান্দী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ রানা রিপন। নিজের উদ্যোগ ও অর্থায়নে শৈলেনের পরিবারের জন্য নির্মাণ করে দিয়েছেন একটি নতুন ঘর। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ঘরটির উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারান্দী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি দ্বীন ইসলাম বাদল, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরু উদ্দিন, নারান্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্যসচিব রবিউল আউয়াল রবিন, ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু আহমেদ রাজিব, যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন নিলয়, নারান্দী ইউনিয়ন জাসাসের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেন, ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মো. সবুজ মিয়া এবং ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আক্কাস।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মোদকপাড়া এলাকার মৃত ক্ষেত্র মোহন মোদকের ছেলে শৈলেন মোদক। দিনমজুরি করে স্ত্রী সবিতা রাণী মোদক ও দুই সন্তানকে নিয়ে তার সংসার চলে। প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসারের খরচ চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে একটি নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্য ছিল না তার।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ও জরাজীর্ণ ঘরেই বসবাস করছিল শৈলেনের পরিবার। ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরে পানি ঢুকে পড়ত। ঝড়-বৃষ্টির সময় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো তাকে। অর্থের অভাবে ঘরটি সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণ করাও সম্ভব হচ্ছিল না।
শৈলেনের এই দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন মাসুদ রানা রিপন। শুধু অর্থ সহায়তা না দিয়ে তিনি একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে নির্মাণ করা হয় নতুন ঘরটি।
নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে শৈলেনের পরিবারে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ পেরিয়ে এখন বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের সময় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তুলনামূলক নিরাপদে থাকার সুযোগ পেয়েছেন তারা।
শৈলেন মোদক বলেন, “আগের ঘরটি খুবই ভাঙাচোরা ছিল। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ত। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছি। মাসুদ ভাই আমাদের জন্য একটি ঘর করে দিয়েছেন। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। নতুন ঘর পেয়ে এখন ভালোভাবে থাকতে পারব। আমি তার জন্য দোয়া করি, তিনি যেন মানুষের পাশে থাকতে পারেন।”
শৈলেনের স্ত্রী সবিতা রাণী মোদক বলেন, “স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে আগে ভাঙা ঘরে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে অনেক কষ্ট করে থাকতে হয়েছে। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ত। এখন নতুন ঘর পেয়ে আমরা অনেক স্বস্তি পেয়েছি। দিন-রাত একটু ভালোভাবে কাটাতে পারব।”
প্রতিবেশী সুষিল চন্দ্র মোদক বলেন, “শৈলেনের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক কষ্টে ছিল। তাদের ঘরের অবস্থাও খুব খারাপ ছিল। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়ত। এখন নতুন ঘর পাওয়ায় তাদের কষ্ট অনেকটাই কমেছে। অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা এলাকাবাসীও খুশি।”
নারান্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু আহমেদ রাজিব বলেন, “শৈলেন মোদকের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে খুব কষ্টে বসবাস করছিল। সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় মাসুদ রানা রিপন ভাই পরিবারটির ঘরের অবস্থা দেখেন। তখন তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন জালাল ভাই নির্বাচিত হলে পরিবারটির জন্য একটি ঘর করে দেওয়া হবে। পরে সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রিপন ভাই নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে ঘরটি নির্মাণ করে দিয়েছেন।”
নারান্দী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ দ্বীন ইসলাম বাদল বলেন, “একটি অসহায় পরিবারের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া অত্যন্ত মানবিক কাজ। মাসুদ রানা রিপন এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও তিনি এভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।”
নারান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা রিপন বলেন, “সংসদ নির্বাচনের সময় অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন জালাল ভাইয়ের পক্ষে প্রচারণায় এসে শৈলেন মোদকের পরিবারের ঘরের দুরবস্থা দেখি। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ত। ঝড়-বৃষ্টির সময় পরিবারটির অনেক কষ্ট হতো। তখন আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, জালাল ভাই নির্বাচিত হলে এই পরিবারকে একটি ঘর করে দেব।”
তিনি বলেন, “জালাল ভাই নির্বাচিত হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমি ব্যক্তিগত অর্থায়নে শৈলেনের পরিবারের জন্য ঘরটি নির্মাণ করে দিয়েছি। মানুষের পাশে থাকা ও মানুষের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করে যেতে চাই।”
কেকে/সাশ