শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: আরও বেড়েছে সবজির দাম      লালবাগে পাঁচতলা ভবনের নিচে মাটি খুঁড়ে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ      কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট আবার খুলে দেওয়া হলো      চার ক্যাচের খেসারত, ভারতের কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের      বিএনপির হাতে শুরু বিএনপিতেই বিলুপ্তি      লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে আমরাই আগে করতাম : প্রধানমন্ত্রী      হাম ও ডেঙ্গুতে একদিনে ১৩ জনের মৃত্যু      
খেত খামার
ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন, শীতের আগে চারার ব্যাপক বিকিকিনি
সনৎ চক্রবর্ত্তী, ফরিদপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ফরিদপুরের চরাঞ্চলে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগেই বিভিন্ন জাতের সবজির চারা বিক্রির ধুম পড়েছে। নতুন চারায় সয়লাব হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজার। এ মৌসুমে ২০-২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রির আশা করছেন চাষি ও উদ্যোক্তারা।

চার জেলার চাষি-উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক ও বারোমাসি চাষিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে ও আনন্দে আছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিচর ইউনিয়নের দুর্গম পদ্মাচরের চাষি-কৃষক ও উদ্যোক্তারা। তারা জানিয়েছেন, চরের আটটি পয়েন্টে এবার বাম্পার সবজি ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতের আগে ও পরে কমপক্ষে ১৭-১৮ কোটি টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। পাশাপাশি কৃষক ও সবজি চাষিরা আশা করছেন, উন্নত জাতের বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন তাদের ভাগ্য বদলাবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর অঞ্চলের চার জেলার ২০টি উপজেলার ২০-২৫টি চরে আগাম নতুন শীতকালীন বিভিন্ন জাতের চারা বিক্রি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে কৃষকের উৎপাদিত উন্নত জাতের বেগুন, টমেটো, কাঁচামরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, আনাচি কপি, শিমের চারা, লাউগাছ ও পুঁইশাকের চারাসহ কমপক্ষে ১০-১২ জাতের শীতকালীন চারার। বিক্রিতেও ধুম পড়ে গেছে।

প্রতি বছরই শীত আসার আগে পূজার মধ্যে বাজারে উঠে যায় শীতকালীন আগাম শাকসবজি। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

বিশেষ করে রাজবাড়ীর চরাঞ্চল, মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চল, শরীয়তপুরের চরাঞ্চল, ফরিদপুর সদর, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের বিশাল বিশাল চরের মধ্যে মাথা উঁচু করে উঁকিঝুঁকি মারছে বহু জাতের শীতকালীন সবজির চারা ও গাছ।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর, কাঁঠালবাড়ী ঘাট, ডাইয়ারচর, সন্যাসীরচর, মুন্সীরচর ও গাবতলা বাজার চর এলাকায় শীতকালীন নতুন চারার বিক্রিতে বড় বড় হাট বসছে। বিক্রিও হচ্ছে জমজমাটভাবে।

শীত আসার আগেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় উল্লেখিত বীজতলাগুলোতে। ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর, চরমাদবদিয়া, মাইজামিয়ার ডাঙ্গী, কামারডাঙ্গীসহ দুর্গম চর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপকহারে বাড়ছে শীতকালীন সবজির চারার কেনাবেচা।

এ ছাড়া ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের চার-পাঁচটি চর ও পদ্মাপাড়েও বসছে সবজি ও সবজির চারা বিক্রির হাট।

ওই ইউনিয়নের সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চারা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কাছে। কৃষকদের হিসাবে, তিন থেকে চার মাসের এ মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়।

ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত জেলার উপজেলাগুলোর ৩০টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতিবছর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করা হয়।

উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, বেগুন, মরিচ ও টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হয় এসব এলাকায়। এর মধ্যে চরের বিশেষ সুবিধা হলো, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট চর থেকেই সুলভমূল্যে চারা কেনা যায়। এ কারণে ক্রেতারা শহরের বাজারের চেয়ে চরের বীজতলা থেকেই বেশি চারা কিনে নেন।

বৃহত্তর ফরিদপুরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে মাদারীপুর, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর চারার। এসব এলাকার চারা পাশের জেলার সবজি চাষিরা কিনে নেন।

স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর পাবনা, দাশুড়িয়া, সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এসব চারা কিনে নেন।

চারা ব্যবসায়ী আরমান, কাইয়ুম, সোবাহান, মনো ও সুজিতের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘ভাল চারা পাওয়া যায় এবং মানে ভাল এমন চারা নিতে দূর হলেও আমাদের কষ্ট হয় না। চারা কিনে যদি ভাল ফলন না পাওয়া যায়, তখন অনেক কষ্ট লাগে।’

ফরিদপুরের সবজির রাজধানী কানাইপুর, চরভদ্রাসনের প্রত্যন্ত অঞ্চল, সদরপুরের কৃষ্ণপুর, গজারিয়া, যাত্রাবাড়ী, নিজগ্রাম, সদর উপজেলার ডিক্রিচর ও নর্থচ্যানেল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বীজতলা বাঁশের চাটাই দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই চাটাইয়ের নিচে সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে টমেটো, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও মরিচের চারা। কোথাও চাটাই সরিয়ে চারায় পানি দিচ্ছেন কৃষকেরা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত নতুন বীজতলা তৈরির কাজে।

কানাইপুর এলাকার চাষি হাসান ১০০টি মাচা করছেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি বীজতলার এক দফার চারা কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এভাবে দুই-তিন দফায় চারা করেন। সব মিলিয়ে তাদের বীজতলা থেকে প্রতি মৌসুমে ৫০-৬০ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়।

চরভদ্রাসন এমপিডাঙ্গীর নওশের বলেন, ‘আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।’

চারার ব্যবসায় বেড়ে ওঠে যেভাবে :

চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কমপক্ষে ২৫ জন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার আগে থেকেই ফরিদপুর অঞ্চলে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয়ে আসছে। আস্তে আস্তে এই ব্যবসায়ের বিস্তার ঘটে। কৃষকেরা খৈল, জৈব সার ও পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করে উন্নত জাতের চারা উৎপাদন শুরু করেন। একপর্যায়ে ফরিদপুর অঞ্চলের চারার সুনাম দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জেলার বাইরে আরও ১২-১৩ জেলায় এসব চারার চাহিদা তৈরি হয়।

কৃষকদের দাবি, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি চলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল এলাকার চারা ব্যবসায়ী আ. হক বলেন, ‘চরের বীজতলায় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফরিদপুরের চরাঞ্চল   সবজির বাম্পার ফলন   শীতের আগে   চারা বিকিকিনি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close