মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই : জাহেদ উর রহমান      চাপে সাধারণ মানুষ, নিরুপায় সরকার      নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      একে একে গ্রেপ্তার ইমরান খানের তিন বোন      বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়াতে চান পরিবহন মালিকরা      ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৬৫৫      ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      
খেত খামার
হাট নয়, গ্রামেই দিনে ৩০০ মণ করলার বেচাকেনা
শাহিনুর ইসলাম শাহিন, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বিকেল হলেই জমি থেকে সদ্য তোলা করলা নিয়ে আসেন কৃষকেরা। কেউ ব্যাগে, কেউ প্লাস্টিকের ক্যারেটে করে গ্রামের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসেন এসব সবজি। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে দরদাম ও বেচাকেনা। পরদিন সকালে পিকআপে করে সেই করলা চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে।

অবাক করার মতো বিষয় হলো, এটি কোনো সরকারি ইজারাভুক্ত হাট নয়। গ্রামের ভেতরের একটি সাধারণ জায়গায় প্রায় ১৫ বছর ধরে গড়ে উঠেছে করলার এই পাইকারি কেনাবেচার কেন্দ্র।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের মসজিদের সামনের ফাঁকা জায়গাটি এখন আশপাশের গ্রামের করলা চাষিদের কাছে পরিচিত পাইকারি বিক্রিকেন্দ্র হিসেবে।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এখানে করলার বেচাকেনা শুরু হয়েছে মৌসুম শুরুর প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই। বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয়জন মহাজন নিয়মিত করলা কিনছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা আসে এই কেন্দ্রে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। পরদিন সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে পিকআপে করে এসব করলা পাঠিয়ে দেওয়া হয় দেশের বিভিন্ন বাজারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের মসজিদের সামনে অস্থায়ী ত্রিপলশেডের নিচে ব্যাগ ও প্লাস্টিকের ক্যারেটে করলা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে করলাভর্তি ব্যাগ ও ক্যারেট। পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি পিকআপ। আগের সন্ধ্যায় করলা বিক্রি করা দুই কৃষক মহাজনের কাছ থেকে তাঁদের পাওনা টাকা নিচ্ছিলেন।

কৃষকেরা জানান, এখানে করলা বিক্রি করায় তাঁদের বাড়তি ঝামেলা কম। জমি থেকে করলা তুলে সরাসরি বিক্রিকেন্দ্রে নিয়ে এলেই হয়। অন্য কোনো হাটে নিতে হয় না। ফলে পরিবহন খরচ, টোল কিংবা ধলতার মতো বাড়তি খরচও দিতে হয় না। আবার স্থানীয় হাটের তুলনায় অনেক সময় ভালো দাম পাওয়া যায়। এসব কারণে আশপাশের গ্রামের অনেক কৃষক এখন এখানেই করলা বিক্রি করছেন।

স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এক মণ করলা ২ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। কয়েক দিন আগে দাম কম ছিল। হাটের চেয়ে এখানে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই এলাকার কৃষকেরা এখানে করলা বিক্রি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।’

করলা বিক্রির পর তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে এই গ্রামকে ঘিরে। মহাজনেরা কৃষকদের কাছ থেকে করলা সংগ্রহ করে বাছাই ও প্যাকেটজাত করেন। পরে পিকআপে করে সেগুলো বিভিন্ন বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মহাজন বাবু মণ্ডল বলেন, ‘প্রতিদিন আড়াই শ থেকে ৩০০ মণ করলা এখানে আসে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলে। পরদিন সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা মুরশিদুল ইসলাম জানান, আশপাশের মাঠগুলোতে করলার আবাদ বেশি হওয়ায় প্রায় ১৫ বছর আগে কয়েকজন মহাজন এখানে কৃষকদের কাছ থেকে করলা কেনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে কৃষকের সংখ্যা ও করলার পরিমাণ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে জায়গাটি করলার পাইকারি কেনাবেচার পরিচিত কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

কৃষকেরা বলেন, মাঠের কাছাকাছি এই বিক্রিকেন্দ্র হওয়ায় তাঁদের সময় ও পরিবহন খরচ—দুটিই কমছে। বিশেষ করে বিকেলে জমি থেকে করলা তুলে এনে রাতের মধ্যেই বিক্রি করে দিতে পারছেন তাঁরা। এতে পরদিন আবার জমিতে কাজ করার সুযোগ থাকছে।

ক্ষেতলাল উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। চাহিদা ও সরবরাহের ওপর করলার দাম ওঠানামা করে। কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ তাঁদের পরামর্শ দিচ্ছে।

ধান ও আলুর জন্য পরিচিত ক্ষেতলালের কৃষিতে এখন বিভিন্ন সবজির আবাদও বাড়ছে। উঁচু জমিতে করলা, পটল, বেগুন, চিচিঙ্গা, লাউ ও শসার মতো সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে করলাকে ঘিরে বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের এই পাইকারি কেন্দ্রটি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারে পৌঁছে দেওয়ার একটি স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

কোনো সাইনবোর্ড নেই, নেই ইজারার আওতায় থাকা আনুষ্ঠানিক হাটের অবকাঠামোও। তবু প্রতিদিন শত শত মণ করলার বেচাকেনায় জমে ওঠে গ্রামের এই জায়গাটি। বিকেলে কৃষকেরা নিয়ে আসেন মাঠের ফসল, রাতে চলে দরদাম, আর সকালে সেই করলাই পিকআপে চড়ে পাড়ি দেয় দূরের বাজারের পথে। এভাবেই প্রায় দেড় দশক ধরে গ্রামের একটি সাধারণ জায়গা করলা চাষিদের কাছে হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বিক্রিকেন্দ্র।

কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  করলা চাষ   বিক্রি   ক্ষেতলাল   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close