কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মাত্র ১৬টি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু করা মামা-ভাগ্নের খামারে এখন রয়েছে ৭৫টি ষাঁড়। তিন বছরের ব্যবধানে ছোট পরিসরের সেই উদ্যোগ বড় খামারে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে খামারটিতে তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। গরু পালন করে নিজেদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজনের কর্মসংস্থানও তৈরি করেছেন তাঁরা।
উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের জুনিয়াদহ বাজারের উত্তর পাড়ায় প্রায় এক বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে ‘শাহা ডেইরী ফার্ম’। ২০২৩ সালে মালয়েশিয়া ও লিবিয়াপ্রবাসী পরিবারের সদস্য লাল চাঁদ মন্ডল (৩৮) ও তার ভাগ্নে তোতা শাহা (৩৪) যৌথভাবে খামারটি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদেশের কর্মজীবন ছেড়ে দেশে ফিরে তাঁরা গরুর খামার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
শুরুতে ১৬টি গরু দিয়ে যাত্রা করলেও বর্তমানে খামারে রয়েছে ৭৫টি ষাঁড়, একটি গাভী ও দুটি মহিষ। এর মধ্যে সাতটি দেশি জাতের, ৬০টি শাহীওয়াল এবং ছয়টি ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় রয়েছে। খামারের বর্তমান গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
খামারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত কোরবানির ঈদে ঢাকার বিভিন্ন হাটে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার গরু বিক্রি করেন তাঁরা। এতে তাঁদের লাভ হয় প্রায় ১২ লাখ টাকা। সেই সাফল্য ধরে রেখে আগামী কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৭৫টি ষাঁড় প্রস্তুত করছেন তাঁরা। পরিকল্পনা রয়েছে এসব গরু ঢাকার হাটে বিক্রির।
খামারের পরিচর্যাকারী মো. মইনুল ইসলাম বলেন, খামারে তিনি নিজেসহ মোট পাঁচজন কর্মচারী কাজ করেন। গরুর স্বাস্থ্য ও ওজন বাড়াতে খড়, ভুসি ও খৈলসহ সুষম খাবার দেওয়া হয়। আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করেই গরুগুলোর পরিচর্যা করা হচ্ছে।
খামারের উদ্যোক্তা লাল চাঁদ মন্ডল বলেন, তিন বছর আগে মামা-ভাগ্নে মিলে নিজেদের এক বিঘা জমিতে ১৬টি গরু নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে লাভের অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করায় খামারের পরিসর বেড়েছে। বর্তমানে তাঁদের বিনিয়োগ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। ৭৫টি ষাঁড়ের পেছনে বছরে ব্যয় হচ্ছে ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫০ টাকা। আসন্ন কোরবানির ঈদে গরুগুলো ঢাকার বাজারে বিক্রির আশা করছেন তাঁরা।
ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তারেক হাসান বলেন, জুনিয়াদহ ইউনিয়নের শাহা ডেইরী ফার্মটি বর্তমানে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে খামারটিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি খামারের গরুগুলোকে ক্ষুরা রোগ ও তড়কা বা অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত সপ্তাহে কীটনাশকও সরবরাহ করা হয়েছে। সরকারি কোনো অনুদান বা সহযোগিতার সুযোগ এলে খামারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। তার মতে, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অনুকরণীয় হতে পারে।
বিদেশের কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে গরু পালনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির এই উদ্যোগ এখন ভেড়ামারায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
কেকে/সাশ