চট্টগ্রাম সিটিতে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সিএমপির কমিশনারের কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফ করেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের এক দুবাইপ্রবাসীর ১ নম্বর বাড়ি ভাড়া নেন। বাড়িটি তারা প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে আসছিলেন।
আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশে তাদের সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক সহায়তা প্রদানকারী দেশীয় ও বিদেশি সহযোগী রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এসব সহযোগীর মধ্যে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ও তাদের অজ্ঞাতনামা পলাতক সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ এবং আইনানুগ কর্তৃত্ববহির্ভূত ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অপরাধ করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উদ্ধার করা আলামতগুলো হলো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পুরোনো ও ব্যবহৃত ১৩৪টি মোবাইল ফোন, অ্যাপল ব্র্যান্ডের একটি পুরোনো ও ব্যবহৃত ট্যাব, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৭টি পুরোনো ও ব্যবহৃত ল্যাপটপ, একটি সাদা রঙের সিপিইউ, স্যামসাং ব্র্যান্ডের একটি কালো রঙের মনিটর, একটি পুরোনো ও ব্যবহৃত কি-বোর্ড, একটি পুরোনো ও ব্যবহৃত মাউস, একটি পুরোনো ও ব্যবহৃত কালো রঙের প্রিন্টার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচটি পেনড্রাইভ, বিভিন্ন কোম্পানির চারটি সিমকার্ড, পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি কম্বোডিয়ান কর্মসংস্থান কার্ড।
কেকে/এমএ