ত্বকের উপকারী অণুজীবের বৈচিত্র্য বাড়তে পারে মাটিতে হাত ছোঁয়ানো কিংবা কাদা-মাখা প্রকৃতিতে সময় কাটালে। এর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
প্রকৃতির কাছাকাছি হাঁটাহাঁটি করলেও অনেকে গাছপালা, ঘাস বা মাটির সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলেন। তবে ফিনিশ এনভায়রনমেন্ট ইনস্টিটিউটের গবেষক মিরা গ্রোনরুসের পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ২০ সেকেন্ড মাটি, পিট ও মস হাতে ঘষার পর পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেললেও ত্বকের অণুজীবের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গবেষকদের মতে, ত্বকে বিভিন্ন ধরনের উপকারী অণুজীবের সহাবস্থান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার আধিপত্য ঠেকাতে সাহায্য করে। ফলে ত্বকের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রকৃতির সংস্পর্শের সুফল নিয়ে গবেষণা চলছে ফিনল্যান্ডে। ‘ভাহভিসতু’ প্রকল্পের আওতায় ৪৩টি ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের প্রাকৃতিক পরিবেশে খেলাধুলার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর পূর্বে করা গবেষণায় দেখা যায়, বনের মাটি, গাছপালা ও পিটের সংস্পর্শে থাকা শিশুদের ত্বকে দীর্ঘ সময় পরও অণুজীবের বৈচিত্র্য বেশি ছিল।
গবেষক মারজা রোসলান্ডের মতে, উপকারী অণুজীবের বৈচিত্র্য বাড়লে ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধির সুযোগ কমে যায়। তার গবেষণায় প্রাকৃতিক পরিবেশে খেলা করা শিশুদের ত্বকে ক্ষতিকর প্যাথোজেনের উপস্থিতিও কম পাওয়া গেছে।
তবে হাঁপানি, অ্যাকজিমা বা অ্যালার্জির মতো রোগ প্রতিরোধ-সম্পর্কিত সমস্যার বিরুদ্ধে প্রকৃতির সংস্পর্শের সুনির্দিষ্ট প্রভাব এখনো নিশ্চিত নয়।
গবেষকদের মতে, নিয়মিত ও দীর্ঘসময় প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
এর পূর্বে, ২০১৬-১৭ সালের দিকে মারজা রোসল্যান্ড এক ডে-কেয়ারের উঠানে পিট ও গাছ লাগানোর বক্সসহ বনের মাটি এনে হাজির করেছিলেন। শিশুরা সেখানে টানা ২৮ দিন নিয়মিত খেলা করার পর ও এক বছর বাদে তাদের ত্বক, লালা ও অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ওপর এর প্রভাব পরিমাপ করেছিলেন তিনি। যে শিশুরা পাকা উঠানে খেলা করেছিল, তাদের তুলনায় বনের মাটির সংস্পর্শে থাকা শিশুদের ত্বকে এক বছর পরও বেশি ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য লক্ষ করা গেছে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি
কেকে/এমএ