জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসার সব কার্যালয় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওয়াসা ভবনে ঢাকা ওয়াসা ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পূউর (ডর্প)-’র যৌথ আয়োজনে ‘ঢাকা ওয়াসার সকল কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) একেএম ফজলুল হক বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০৫-’র সংশোধিত বিধান কার্যকর করার পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার সব কার্যালয়ে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্পের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি বলেন, ‘দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র, জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে অনেক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে রয়েছেন।’
গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) ২০১৭ সালের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। একই জরিপ অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসেন।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ, পাবলিক পরিবহনে ৪৪ শতাংশ এবং রেস্তোরাঁয় প্রায় ৪৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে এসেছেন।
জেবা আফরোজা বলেন, ‘প্রত্যক্ষ ধূমপানের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি।’
দ্য ল্যানসেটের একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালে বিশ্বে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’
তামাক ব্যবহারের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়। স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়, উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া ও অন্যান্য ক্ষতি মিলিয়ে তামাক ব্যবহারের কারণে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার সচিব মুহাম্মদ আবদুল হাই মিল্টন। তিনি বলেন, ‘শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় সরকারি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
বক্তারা বলেন, তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঢাকা ওয়াসার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
ডর্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা ওয়াসার কার্যালয়গুলোতে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গণবিজ্ঞপ্তি, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ স্থাপনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে।
আলোচনা সভায় ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও ডর্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এআই