রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ বাতিলের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগের পর তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগও ছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাটি ২০২৫ সালের। কিছু অনিয়মের অভিযোগের পর আম্মারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শিবিরের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আম্মারের ‘সাথী’ পদ প্রথমে স্থগিত করা হয়। ওই সময় তার বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদতে উদাসীনতা, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদ তছরুপ এবং সংগঠনের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।
এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমান রাকসু ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগের কথাও উঠে আসে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বিষয়টি সংগঠনের নজরে আসে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের ‘সাথী’ পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চলতি বছরের ৩১ জুলাই রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠিতে আগের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলোর বিষয় পুনরায় উল্লেখ করা হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, আম্মারের কর্মকাণ্ডের কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার কিছু কর্মকাণ্ড সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
একই চিঠিতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের আম্মারের অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো ধরনের ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের সঙ্গে তার কেবল দাপ্তরিক যোগাযোগ রাখার কথা বলা হয়।
এদিকে রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন সালাউদ্দিন আম্মার। নির্বাচনের সময় প্যানেলটি ছাত্রশিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচনায় এসেছিল। একই প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মেহেদী সজীব পরবর্তীতে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে পরিচিত হন। আম্মারের সাথীপদ বাতিলের তথ্য সামনে আসার পর প্যানেলটি ঘিরে পুরোনো আলোচনাও নতুন করে সামনে এসেছে।
তবে সালাউদ্দিন আম্মার অতীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কেকে/সাশ