মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ, চার মামলায় আসামি ২০০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এ সব মামলায় ৪০০-৫০০ জন করে আসামি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আসামির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, তার থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কাফরুল থানায় সিটি করপোরেশনের গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছে। কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ওই মামলায় ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটমুখী সড়কে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হচ্ছিল।
অভিযানের একপর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫-২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন হকাররা। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
সংঘর্ষের মধ্যে সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের একটি গাড়ির কাচও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতির কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন।
পরে দুপুরে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। এ সময় মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দুপুরে সেখানে যান ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলো পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে।’
ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে তদন্তের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।