শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬,
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারসহ রাজধানীর চার বারে অভিযান      ● বঙ্গোপসাগরকে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বাংলা‌দেশ : মুনীরুজ্জামান      ● গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসের আগুন নিয়ন্ত্রণে, আটকে পড়া ৬৯ শ্রমিক উদ্ধার      ● ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৬০৮      ● ২৪ ঘণ্টায় হামে ৮ জনের প্রাণহানি      ● হা‌সিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না : দীনেশ ত্রিবেদী      ● আলেম সমাজকে অঘটনের দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় : শফিকুর রহমান      
ইতিহাস ও এতিহ্য
চারশ বছরের ‘দেবালয়’ আজও জ্বলে দুর্গাপূজার ঐতিহ্যের আলো
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৫ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

জমিদারি প্রথা নেই, নেই সেই জমিদারদের প্রতাপও। সময়ের স্রোতে বদলে গেছে চারপাশের অনেক কিছু। কিন্তু কয়েক শত বছরের পুরোনো দুই জমিদারবাড়িকে ঘিরে এখনো টিকে আছে ধর্মীয় ও সামাজিক নানা ঐতিহ্য। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় খলিশাগাড়ির ‘দেবালয়’ জমিদারবাড়ি এবং পৌর এলাকার বকসীপাড়ার জমিদার গিরীশ চন্দ্র চাকীর বাড়িতে আজও পারিবারিকভাবে চলে আসছে দুর্গাপূজাসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, দুই বাড়িতেই মহালয়ার পর প্রতিপদ থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত টানা ১০ দিন ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়ে থাকে।

স্থানীয় ইতিহাস ও বংশপরম্পরায় জানা যায়, প্রায় চারশ বছর আগে ক্ষেতলালের খলিশাগাড়ি স্টেটের জমিদার ছিলেন কৃষ্ণ কান্ত দেব। তিনি নিজ বাড়িতে নিয়মিত পূজা-অর্চনা করতেন। তার ছেলে ছিলেন নীল মাধব দেব। নীল মাধব দেবের দুই সন্তান ইন্দু মাধব দেব ও সুধাংশু মাধব দেব। পরবর্তী সময়ে এ বংশের বিভিন্ন প্রজন্ম এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন।

নীল মাধব দেব এবং তার বংশের নামের সঙ্গে মিল রেখেই বাড়িটির নাম হয় ‘দেবালয়’। চারশ বছরের পুরোনো এ জমিদারবাড়ি আজও সেই সময়ের স্মৃতি বহন করছে। নীল মাধব দেবের নাতিবউ গৌরী রানী দেব বর্তমানে এ বাড়িতে বসবাস করছেন। তার কোনো সন্তান নেই। বংশের ঐতিহ্য ধরে রেখে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাড়িটির ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

গৌরী রানী দেব জানান, পূর্বপুরুষদের সময় থেকে তাদের বাড়িতে পূজা-অর্চনার ধারাবাহিকতা চলে আসছে। সময়ের সঙ্গে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও ধর্মীয় ঐতিহ্যটি তারা ধরে রেখেছেন। তার উদ্যোগেই দীর্ঘ সময় পর বাড়ির মন্দির সংস্কার করা হয়েছে। প্রায় ১১৮ বছর পর মন্দিরটি পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তার কাছে এ মন্দির ও পূজার আয়োজন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পরিবারের কয়েক শত বছরের ইতিহাস ও পূর্বপুরুষদের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি ঐতিহ্য।

দেবালয় জমিদারবাড়ির দুর্গাপূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর দীর্ঘ আয়োজন। সাধারণত মহালয়ার পর দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও বিভিন্ন স্থানে মূল উৎসবের আয়োজন বেশি দৃশ্যমান হয় ষষ্ঠী থেকে। কিন্তু দেবালয়ে মহালয়ার পর প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী এভাবে টানা ১০ দিন ধরে দুর্গাপূজা পালন করা হয়।

শুধু দেবালয় নয়, ক্ষেতলাল পৌর এলাকার বকসীপাড়া গ্রামের জমিদার গিরীশ চন্দ্র চাকীর বাড়িতেও একইভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে ১০ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সেখানে প্রায় ২৫০-৩০০ বছর ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে। এ পূজার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো ২০টির বেশি ঢাকের বাদ্যিতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। একসঙ্গে এত ঢাকের বাদ্যি পূজার পরিবেশকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে।

জমিদার গিরীশ চন্দ্র চাকীর অধীনে প্রায় ২ হাজার ৯০০ বিঘা জমি ছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। তার সাত ছেলে ও দুই মেয়ে ছিলেন। ১৯২৮ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত তার জমিদারি বহাল ছিল। ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ ও প্রজাস্বত্ব আইন কার্যকর হওয়ার পর তার জমির অধিকার প্রজাদের নামে খতিয়ানভুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে অবশিষ্ট জমি বংশধরদের মধ্যে ভাগ-বণ্টন হয়। বর্তমানে পরিবারের বংশধরেরা সেই সম্পদ ও নিজ নিজ জীবিকার মাধ্যমে জীবনযাপন করছেন।

এ সব ইতিহাস জানিয়েছেন জমিদার গিরীশ চন্দ্র চাকীর পৌত্র কিশোর কুমার চাকী (রতন চাকী)। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বাড়িতে প্রায় আড়াই থেকে তিনশত বছর ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে, জমির মালিকানায় এসেছে পরিবর্তন, বদলে গেছে সময় ও মানুষের জীবনযাপন। কিন্তু পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া পূজার ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছেন পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে ২০টির বেশি ঢাকের বাদ্যিতে পূজা সম্পন্ন করার রীতিটি তাদের বাড়ির পূজার অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

রতন চাকী আরও জানান, তার পূর্বপুরুষ গিরীশ চন্দ্র চাকীর অধীনে প্রায় ২ হাজার ৯০০ বিঘা জমি ছিল। কয়তাহার, তারাপানি, ইকরগাড়া, বয়রা, বিনসারা, ক্ষেতলাল মৌজার একাংশ, ভাবকি ও পূর্ব ভাবকিসহ বিভিন্ন মৌজা তার জমিদারির অধীনে ছিল। দিনাজপুরের নাহাটা স্টেটের রাজা গান্চানাহাটা ও পুরনচাঁদনাহাটার অধীনস্থ হিসেবে ক্ষেতলালের জমিদাররা এ সব এলাকা থেকে খাজনা আদায় করে স্টেটে জমা দিতেন বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় ইতিহাস ও পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, ক্ষেতলালে মূলত এ দুই জমিদারের মাধ্যমে খাজনা আদায়ের ব্যবস্থা পরিচালিত হতো। ফলে তাদের জমিদারি শুধু একটি পরিবার বা বাড়ির ইতিহাস নয়, ক্ষেতলালের বিস্তীর্ণ এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গেও এর যোগসূত্র রয়েছে।

এ দুই জমিদারবাড়ির ইতিহাসের সঙ্গে শুধু পূজার ঐতিহ্যই নয়, ক্ষেতলালের সামাজিক জীবন ও মানুষের মিলনের ইতিহাসও জড়িয়ে আছে। জমিদারি আমলে বিজয়া দশমীর দিন দেবালয় জমিদারবাড়ির সামনের খোলা মাঠে বসত বড় মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতেন সেই মেলায়। মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, খাগড়াই, দই, চিড়া, গোল্লা, মাটির তৈজসপত্রসহ নানা ধরনের পণ্য ও খাবারের পসরা বসত। দশমীর দিন জমিদারবাড়ির পক্ষ থেকে আগত মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হতো বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়।

সময় বদলালেও জমিদারদের সেই মেলার ঐতিহ্য পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। চারশ বছরের পুরোনো সেই ধারাবাহিকতায় এখনো ক্ষেতলালের খলিশাগাড়িতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংলগ্ন এলাকায়, বিজয়া দশমীকে ঘিরে মেলা বসে। ধর্ম-বর্ণ ও পেশার ভেদাভেদ ভুলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে অংশ নেন। একদিনের এ আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলা ও বিনোদনের প্রাণকেন্দ্রে।

স্থানীয়দের দাবি, ক্ষেতলাল উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যালয় যে ভূমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেই জমির কোনো কোনো অংশ একসময় খলিশাগাড়ি স্টেটের পক্ষ থেকে দান করা হয়েছিল। তবে জমি দানের বিষয়টি সরকারি দলিল বা রেকর্ডের মাধ্যমে আরও যাচাই করা প্রয়োজন।

চারশ বছরের এ ইতিহাস আজকের ক্ষেতলালের দুর্গাপূজার মধ্যেও যেন নতুন করে ফিরে আসে। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিবছরই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে ক্ষেতলাল। মণ্ডপে মণ্ডপে চলে পূজা-অর্চনা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও ভক্তদের আনাগোনা। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মূল পাঁচ দিনের উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি বাড়ি ও পূজাকেন্দ্রকে ঘিরে এর আয়োজন আরও দীর্ঘ হয়।

এবার ক্ষেতলাল উপজেলায় মোট ৪২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ক্ষেতলাল পৌর এলাকায় রয়েছে সাতটি মণ্ডপ। পৌর এলাকার পাঁচটি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের ঐতিহ্যবাহী একটি পুকুরে। অন্যান্য মণ্ডপের বিসর্জনও নিজ নিজ নির্ধারিত স্থানে সম্পন্ন হয়।

ক্ষেতলাল উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার রায় বলেন, ‘এবারের পূজায় উপজেলার ৪২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি করা হয়। থানা পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে। পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালন করেন।’ 

ফলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজার আয়োজন সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে ক্ষেতলালের দুর্গাপূজার গল্প শুধু এবারের ৪২টি মণ্ডপের আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে কয়েক শত বছরের ইতিহাস, জমিদারি আমলের স্মৃতি, পুরোনো মন্দির, জমিদারবাড়ি, মেলা, মানুষের মিলন এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্য।

খলিশাগাড়ির দেবালয় সেই ইতিহাসের একটি জীবন্ত সাক্ষী। আর বকসীপাড়ার জমিদার গিরীশ চন্দ্র চাকীর বাড়িও ধরে রেখেছে আড়াই থেকে তিন শতাব্দীর পূজার স্মৃতি। দুই জমিদারবাড়ির পূজার সময়কাল ও আচার-অনুষ্ঠানে মিল থাকলেও রয়েছে নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য। দেবালয়ে ১০ দিনব্যাপী পূজার ঐতিহ্য, আর গিরীশ চন্দ্র চাকীর বাড়িতে ২০টির বেশি ঢাকের বাদ্যিতে পূজা সম্পন্ন করার রীতি।

সময় বদলেছে। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে। পুরোনো জমিদারবাড়ির অনেক স্মৃতিই হয়তো আজ আর আগের মতো নেই। বদলে গেছে মানুষের জীবনযাপনও। কিন্তু দেবালয়ের মন্দিরে এখনো পূজার আয়োজন হয়, গিরীশ চন্দ্র চাকীর বাড়িতেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে দুর্গাপূজা। বিজয়া দশমীর দিনে খলিশাগাড়ির মেলায় জমে ওঠে মানুষের ভিড়। পুরোনো মেলার পসরা হয়তো বদলেছে, কিন্তু উৎসবকে ঘিরে মানুষের মিলন ও আনন্দের সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে।

কৃষ্ণ কান্ত দেবের চারশ বছরের পুরোনো পূজা থেকে নীল মাধব দেবের বংশধরদের ধারাবাহিকতা, গৌরী রানী দেবের হাতে মন্দির সংস্কার, দেবালয়ের ১০ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা, গিরীশ চন্দ্র চাকীর বাড়ির আড়াই থেকে তিন শতাব্দীর পূজার ঐতিহ্য এবং ২০টির বেশি ঢাকের বাদ্যি সব মিলিয়ে ক্ষেতলালের এ দুই জমিদারবাড়ি যেন ইতিহাস ও বর্তমানের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি জীবন্ত স্মৃতিচিহ্ন। এগুলো শুধু দুটি জমিদার পরিবারের অতীতের গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ক্ষেতলালের মানুষের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলা।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  চারশ বছর   দেবালয়   দুর্গাপূজা   ঐতিহ্য   আলো  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

ইতিহাস ও এতিহ্য- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close