এক সময় গ্রামবাংলার মানুষের কেনাকাটা, আড্ডা ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল সাপ্তাহিক হাট। ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা, নগরকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায় সপ্তাহে দুই দিন করে বসত জমজমাট হাট। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগমনে মুখর হয়ে উঠত হাটের পরিবেশ। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য এখন অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।
বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন সকাল-বিকেল ছোট-বড় বাজার বসায় সাপ্তাহিক হাটের ওপর মানুষের নির্ভরতা কমেছে। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতেই সহজে পাওয়া যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। একই সঙ্গে বিভিন্ন মোড়ে সন্ধ্যার পর মাছ, সবজি ও কাঁচাবাজার বসায় হাটে যাওয়ার প্রয়োজনও কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সরজিত বলেন, ‘আগে হাটের দিনটির জন্য মানুষ অপেক্ষা করত। হাটে শুধু কেনাকাটা নয়, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎও হতো। এখন প্রতিদিনই আশপাশে বাজার বসায় সেই দৃশ্য আর দেখা যায় না।’
আরেক বাসিন্দা পরিমল বলেন, ‘সাপ্তাহিক হাটের সঙ্গে গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। এখন হাতের কাছে সবকিছু পাওয়া যায় বলে মানুষ আর দূরের হাটে যেতে চায় না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ঐতিহ্যবাহী হাটগুলো একসময় পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে।’
স্থানীয়দের মতে, আধুনিক বাজারব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাপ্তাহিক হাটগুলোকে টিকিয়ে রাখতে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও হাটের পরিবেশ উন্নয়ন জরুরি। তা না হলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী এসব হাট অচিরেই স্মৃতির পাতায় ঠাঁই নিতে পারে।
কেকে/ এমএস