সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৯ জন নিহতের ঘটনায় করা এ মামলায় আগামী ১২ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১-এর একক বেঞ্চের সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে সময়ের আবেদন করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, তাসমিরুল ইসলাম, মার্জিনা রায়হানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসিকিউশন জানায়, বৃহস্পতিবার মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের দশম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কথা ছিল। এ জন্য সাক্ষীও ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে একই সময়ে অন্য একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ থাকায় সময় চায় প্রসিকিউশন। পরে আদালত ১২ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলায় নবম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ মাহামুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী। তার ভাই সৈকত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
মামলাটিতে বর্তমানে চার আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক এবং যুবলীগকর্মী ফজলে রাব্বি।
অন্যদিকে নানক-তাপসসহ বাকি আসামিরা পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।
এর আগে ১০ মে তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২৮ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে সহিংসতা চালানো হয়। আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় মাহামুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত এবং অনেকে আহত হন।
কেকে/সাশ