বগুড়ায় ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের দায়ে নুর ইসলাম (৪০) নামের ব্যক্তিকে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পৃথক দুটি মামলায় তাকে ৩০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই মামলায় ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা ভুক্তভোগী দুই শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মারুফ হোসেন এ রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় নুর ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত নুর ইসলাম বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের আড়োলা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মৃত হবিবর রহমানের ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ আড়োলা আবাসন প্রকল্পে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে খাবারের লোভ ও টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণ করেন নুর ইসলাম। বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় তাদের।
পরদিন দুই শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে দুই শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় এক শিশুর মা বাদী হয়ে কাহালু থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ দুই শিশুকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। মামলার তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ অভিযান চালিয়ে নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করে। সাক্ষীদের জবানবন্দি, ভুক্তভোগী শিশুদের ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ মামলার অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত নুর ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দুটি পৃথক মামলায় আসামিকে ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী একটি সাজা ভোগের পর অপর সাজা কার্যকর হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই মামলায় ধার্য করা মোট ১ লাখ টাকা জরিমানার অর্থ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগী দুই শিশুর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’
কেকে/এআই