বলি বলি করেও হয় না বলা আর
বললেই তো বলা শেষ! তবে আজ বলবোই—
গত মাসের আটাশ/উনত্রিশ
অফিস থেকে বের হয়ে বাসে না-উঠে চড়লাম ফুটপাতে
এক মা দাঁড়ালেন পথ আগলে;
বাড়ি যাবে, বাসভাড়া নেই; কোলে দুধের কন্যা।
সাত-পাঁচ না-ভেবেই, শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে
তার হাতে তুলে দিলাম পুরো পকেট।
চিন্তা নেই, দুদিন পরই তো বেতন!
শুনেছি, প্রমোশনটাও হচ্ছে এবার!
কিন্তু শনি দেবতা বুঝি মুচকি হাসলেন
যেটা হলো—মাস শেষে চাকরিটাই গেল!
এইচআরডি হিসাব দিলেন,
একজন সিনিয়র এমপ্লয়ি ইকুয়েল্টু একজোড়া জুনিয়র।
আকারে থেকেও বেকার—
ধানমন্ডি লেকে ঝরাপাতাদের গান
শুনে কাটাই দিন।
গতকাল পাশ থেকে একজন বললেন,
‘স্যার, বাড়ি যাব, ভাড়া নেই। যদি কিছু সাহায্য...’
চশমার কাচে সেই মা, কোলে ওই দুধের শিশু!
কী সাঙ্ঘাতিক ভুলই না করে চলছি!
না মানুষ চিনি, না নিজেকে
প্রেশারের ওষুধ এক সকালেই দুবার খাই।
সেদিন প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে আচমকা দেখা
‘তুমি’ সম্বোধনে জিজ্ঞাসার উত্তরে বললাম,
‘ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?’
আজকাল সবকিছুতে বড়সড় ভুল করি
ভুল করে দু-কাপ কফি নিয়ে মুখোমুখি বসি!
চশমা চোখে তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়াই চশমা!
ফ্লিটারে আগুন ধরিয়ে উল্টোদিকে দিই টান
ঠোঁটও পোড়ে, গচ্ছা যায় সবেধন!
এখন আর কারো ঠিকানা-ই মনে থাকে না;
একের পথের ওপর আরেকের পথ উঠে গিয়ে
এমন হিজিবিজি যে—জেব্রাক্রসিং ভেবে দাঁড়িয়ে থাকি!
কোথাও হয় না যাওয়া আর—
কী এক যন্ত্রণা! দোকানে গিয়ে ভাবি, ‘কেন এলাম?’
চার তলার কলিংবেল টিপতে টিপতে পালিয়ে নামি তিন তলায়!
কেবলই ভুল হয়, একই ভুল বারবার হয়ে যায়
আমার ভুলের বারান্দায় বিষ রেখে সাপও পালায়!
কেকে/ এমএস