যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, ‘বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে পরিবার পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগও তৈরি হতে পারে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে কাজ করছে।’
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে কক্সবাজারে নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের চরপাড়ায় স্থানীয় উদ্যোক্তা আবু তাহের রহমানীর স্থাপিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন ও উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে আমিনুল হক আরও বলেন, ‘পরিবেশ সুরক্ষা এবং জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে বায়োগ্যাস প্লান্ট অত্যন্ত কার্যকরী ও সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণের ফলে তৃণমূল পর্যায়ে তরুণরা অনুপ্রাণিত হচ্ছে এবং দেশে আবু তাহেরের মতো সফল উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, মাত্র ৩টি গরু থাকলেই একটি পারিবারিক বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা সম্ভব, যা বাইরে থেকে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসেবে বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে মানুষের জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রশিক্ষণ ট্রেডগুলোকে আধুনিক ও পরিমার্জিত করা হচ্ছে। আগামী দিনে দেশের যুব সমাজকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের আওতায় এনে বেকারত্ব পুরোপুরি দূর করা হবে। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যুবদের আত্মকর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’
তিনি স্থানীয় তরুণদের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের আহ্বান জানান।
‘স্থানীয় গ্রামীণ পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা গেলে একদিকে যেমন জ্বালানির ওপর প্রচলিত উৎসের নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্থানীয় উদ্যোক্তা আবু তাহের রহমানী জানান, তার স্থাপিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে বর্তমানে এলাকার ১৫টি পরিবারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এতে স্থানীয় মানুষের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আরও বেশি ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কৃষি খাতে অবদানের জন্য ইতোপূর্বে সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া উদ্যোক্তা আবু তাহের রহমানীর এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে।
কক্সবাজার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিড ফাইন্স ও বায়োগ্যাস প্লান্ট প্রকল্প পরিচালক একেএম মফিজুল ইসলাম, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান, মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়াইবুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের উৎসাহ যোগাতে দুই খামারিকে ২ লক্ষ টাকা করে ঋণ সহায়তা চেক দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
কেকে/এমএ