বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● হাম উপসর্গে একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০১০      ● ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৩৬৪      ● টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ      ● যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেপ্তার      ● বিজয়া দশমী আজ, মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর      ● চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর      ● এ বছর ৪০ লাখ কৃষক পাবেন কৃষি কার্ড : প্রধানমন্ত্রী      
রাজধানী
অরক্ষিত হয়ে পড়ছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
‎মাহফুজুল আলম খোকন
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২০ পিএম আপডেট: ২১.১০.২০২৬ ৬:২৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

দিন দিন অরক্ষিত হয়ে পড়ছে হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি। নানা অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলা এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। গত তিন বছরে ঘটেছে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা। বিমানবন্দরের তিনটি গেট দিয়ে তল্লাশি ছাড়াই অহরহ যানবাহন ও জনসাধারণের প্রবেশ, অবহেলার চরম মূল্য দিতে পারে রাষ্ট্রকে বলে দাবিম বিশ্লেষকদের।

‎হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমনী টার্মিনাল-২ ঘুরে দেখা যায়, বর্হিগমণের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষেধ, কিন্তু অহরহর দর্শনার্থী এ দিক দিয়েই টার্মিনাল-২ এর অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে দর্শনার্থীদের থাকার স্থান, আবার নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা অভ্যন্তরীণ জায়গাটিতে অবস্থান নিয়েছেন দর্শনার্থীরা।

অন্যদিকে বিমানবন্দরের বেশ কয়েকটি কার পার্কিং থাকলেও বহির্গমনের রাস্তাটি দখল করে রেখেছে সিএনজি চালকরা। সিএনজি রাস্তায় রেখে টার্মিনাল-২ এর অভ্যন্তরে গিয়ে যাত্রী সংগ্রহ করছেন। এ সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের দেখা গেলেও প্রতিকারে তাদের কোনো কাজ করতে দেখা যায়নি।

টার্মিনাল-২ এর বহির্গমন গেটে প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে সিএনজি চালকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, পার্কিং এ সিএনজি প্রবেশ করতে দেয়া হয় না, সে জন্য তারা রাস্তায় পার্কিং করছেন। এমন বক্তব্য একাধিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী চালকের। আবার এ যানবাহনগুলো ঢাকা মেট্রো পলিটন এলাকার সিএনজি নন, ঢাকা জেলা ও গাজীপুর জেলার সিএনজি।

তবে ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন আরেক সিএনজি চালক, ওনার দাবি মাত্র ৫০ টাকা পার্কিং দিলে তিন ঘন্টা পার্কিংয়ে সিএনজি রাখা যায়, কিন্তু অসাধুচালকেরা সেটা না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনৈতিকভাবে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যাত্রী উঠাচ্ছেন।

‎টার্মিনাল-২ এর সামনে ইজারাকৃত কার পার্কিংটির চেকপোস্টের পাশেই দেখা গেছে একটি ফুলের দোকান, বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের অবর্থনা জানাতে স্বজনরা এখান থেকে ফুল কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এ ফুল ও তোড়া তৈরির সরঞ্জাম কিভাবে প্রবেশ করে বিমান বন্দরের অভ্যন্তরে জানতে চাইলে দোকানি বলেন আজকে আমি নতুন এসেছি দোকানের মালিক আমি নই মালিকের নাম জানিনা, এভাবেই বলছিলেন ফুলের দোকানি।

সেই সঙ্গে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণাকৃত এলাকাটিতে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে ভিক্ষুকদের। কিভাবে এখানে প্রবেশ করল এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকের উপর চড়াও হয়ে বলেন, ‘ভিডিও করতাছেন কেল্লাইগা, এটা বন্ধ করেন, বহুত ফকির আছে ভিতরে হেগরটি করেন। সাংবাদিকের খাইয়া কাম নাই, আইছে আমগো রিজিক মারতো।’

বাহন কুরিয়ার সার্ভিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বস্তা ভর্তি পণ্য নিয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে একজনকে। কিভাবে প্রবেশ করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো চেক করে না, আমরা পরিচয় দিলেই ছেড়ে দেয়, তারা জানে এগুলো কুরিয়ার সার্ভিসের মাল।’

‎আবার, বিমানবন্দর ঢাকা কাস্টমস হাউজের অভ্যন্তরে গিয়ে দেখা যায়, সিএনজিতে ভর্তি করে বস্তায় বস্তায় নামানো হচ্ছে খাবারের বক্স। কিভাবে এগুলো ভিতরে এলো এবং এগুলো কারা খায়? এ বিষয়ে পার্সেল বহনকারীরা জানান, এগুলো স্যারদের খাবার, স্যাররা অর্ডার দেয়। ভিতরে কিভাবে প্রবেশ করলেন চেক ছাড়া এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানায়, এ যে খাবার, দুপুরের লাঞ্চ, স্যার গো কথা কইলে ছাইড়া দেয়।

‎কাস্টম ফাউজের আর একট পূর্বপশের অভ্যন্তরে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেডের একটি খাবার হোটেল, লেখা রয়েছে সালাম ফুড এন্ড রেস্টুরেন্ট। (বেবিচকের) সম্পত্তি বিভাগের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, এ হোটেলটি কোন ইজারাকৃত হোটেল নয়, তাহলে কিভাবে চলছে এ হোটেল? এ হোটেলের চাল ডালের বস্তা তরি-তরকারিসহ সকল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এ চেকপোস্ট হয়ে অভ্যন্তরে প্রবেশ করেই বা কিভাবে?

‎আবার সিএন্ডএফ কার পার্কিং মাঠের পাশে বটতলায় অর্ধশত ভ্রাম্যমান দোকান দেখা যায়, যেখানে ডাব, নারিকেল, আনারস, পেঁপে, পেয়ারা, লেবুর শরবত ও ঝাল মুড়ি বিক্রি করতে দেখা গেছে। সঙ্গে রয়েছে চা, পান, সিগারেটের দোকান। আবার রাস্তার পাশের ফুটপাতে চা দোকান পান সিগারেটের দোকান চিতই পিঠাসহ বেশ কিছু খাবারের দোকান দেখা গেছে। এসব দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতেও দেখা গেছে। কোনোরকম ইজারাহীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যতিরেকে কোন ক্ষমতা বলে এসব দোকানে নানাবিধ মালামালসহ গ্যাস সিলিন্ডারেরমত জ্বালানিবাহী বস্তু নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করছে?

অন্যদিকে কুরিয়ার সার্ভিসের বাহন বিশাল বস্তা ভর্তি মালামাল নিয়ে প্রবেশ করছেন বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইট এলাকায়। আবার অতিরিক্ত যানজট এড়াতে বেবিচকের প্রধান কার্যালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে ঢুকে মেইন গেট দিয়ে বের হতে দেখা গেছে প্রাইভেটকার, সিএনজি, মাইক্রোসহ বেশ কিছু পরিবহনকে। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী বেশ কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটেছে শাহজালালে। এমন পরিস্থিতিতে কোনোরকম চেকপোষ্ট না করেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনায়াসে প্রবেশ করতে পারাটা বড় ধরনের ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আগত দর্শনার্থীসহ অনেকেই।

‎ঝুঁকির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবাধ প্রবেশ একদিকে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবেও নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন উঠতে পারে। কর্তৃপক্ষের উচিত কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই এ সকল সমস্যার সমাধান করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সুনাম রক্ষার লক্ষ্যে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ঢাকা কাস্টম হাউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবৈধ হোটেল ও ক্যাটারিং ব্যবসায়ীদের প্রবেশের কতটা বৈধতা রয়েছে তা জানতে চাইলে, কাস্টমস হাউস ঢাকার অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘এটা কিভাবে ঢুকছে আমার জানা নেই, আর এইগুলো দেখার দায়িত্ব আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমান্ডার মো. আসিফ ইকবাল খোলা কাগজকে বলেন, ‘কন্ট্রোল এরিয়া ও এয়ার সাইডে কোনোরকম নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।’

এ সকল বিষয় ল্যান্ডসাইড এরিয়াতে, ল্যান্ড সাইডের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন আমাদের আর্মড পুলিশ। ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এ বিষয়ে উনাদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান তিনি।

ল্যান্ডসাইড এরিয়ায় নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত (ডিআইজি) নুরুল ইসলাম জানান, বিষয়গুলো সাংবাদিকদের দৃষ্টিতে আসার জন্য ধন্যবাদ। এখানে এপিবিএন যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে। খাবার যারা নিয়ে আসছেন তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, এর বাহিরে কেউ এনে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। যত্রতত্ব পার্কিং বিষয়ে আমাদের এপিবিএন সদস্যরা সর্বদা তৎপর, এরকম কোনো কিছু চোখে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম কাজ করছে। ভ্রাম্যমাণ হকারদের উচ্ছেদে নিয়মিত আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

গ্যাস সিলিন্ডারের বোতলগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে ভিতরে আনা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  অরক্ষিত   শাহজালাল   আন্তর্জাতিক   বিমানবন্দর   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close