রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু চোর সন্দেহে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। অন্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে শিশু চুরির সন্দেহে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিকে আটক করে দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি। একপর্যায়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। ঘটনার পর হাসপাতালের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়। ফুটেজ ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কমান্ডার সাদেক জানান, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান।
তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি, একজনকে কয়েকজন মিলে পিটিয়ে ফেলে রেখে গেছে। পরে চিকিৎসক এনে পরীক্ষা করানো হলে জানা যায়, ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। এরপর বিষয়টি শেরেবাংলা নগর থানায় জানানো হয়। পুলিশ এসে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যায়।’
কমান্ডার সাদেক আরও জানান, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ওই ফুটেজের সূত্র ধরে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে অয়ন। তিনি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার উত্তর রাজাপুর এলাকার জাকির হোসেন ও শাহনাজের ছেলে। বর্তমানে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার সেনপাড়া পর্বতে বসবাস করতেন।
ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি হামলায় অংশ নেওয়া অন্য অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ দিকে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগেও চুরির সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। তবে ওই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এবং বর্তমান ঘটনার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির অভিযোগ সামনে আসায় হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালের মতো জনবহুল ও সংবেদনশীল স্থানে শিশু চুরির সন্দেহে কাউকে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত বলে সন্দেহ হলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার পরিবর্তে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে হাসপাতালের মতো স্থানে, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনেরা চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন, সেখানে এ ধরনের সহিংস ঘটনা জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম খেলা কাগজকে বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আমরা ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি, ভিডিও ফুটেজ দেখে বাকি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
কেকে/এআই