আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী নাবিলা তাসনিদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে স্থানীয় ধামরাই উপজেলা এনসিপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
মনোনয়ন ঘোষণার আগে তার কোনো পরিচিতি না থাকা, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকা এবং স্থানীয়দের অবজ্ঞা করার অভিযোগে তাকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির ধামরাই উপজেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মো. ইস্রাফিল খোকন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রথম পর্যায়ে ধামরাই উপজেলাসহ ১২৫টি আসনে তাদের মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করে। তখন ঢাকা-২০ তথা ধামরাই উপজেলার জন্য এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদের নাম জানা যায়। এই ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত ধামরাই উপজেলা বা কেন্দ্রীয় জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে ওই মনোনীত ব্যক্তির কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। এমনকি ২৪-এর আন্দোলনেও তার কোনো ভূমিকা ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “প্রার্থী ঘোষণার পর স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, নাবিলা তাসনিদের পেছনে পলাতক ফ্যাসিস্টদের একটি শক্তিশালী চক্র রয়েছে। তিনি চৌহাট ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর ভাতিজি। আরও অভিযোগ করা হয়, তিনি আওয়ামী লীগের এজেন্ট এবং ভারতের ‘র’-এর মদদপুষ্ট একটি চক্রের সদস্য। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবকে ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য তাকে প্রার্থী করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।”
খোকন বলেন, “তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ—নাবিলা তাসনিদ ধামরাইয়ের রাজনীতির সঙ্গে কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি স্থানীয় সংগঠন বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেননি। দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের উপেক্ষা করে এমন প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া তৃণমূল মেনে নেবে না বলে সভায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “নাবিলা তাসনিদ পলাতক ফ্যাসিস্টদের অর্থায়নে এনসিপির ওপর ভর করে ধামরাইয়ের স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ধামরাই উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়কারীসহ যুগ্ম সমন্বয়কারী নাজমুল হক, উজ্জল ইসলাম, খোদেজা খানমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে নাবিলার বিরুদ্ধে আপত্তি জানান।”
তিনি বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য—এই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় কমিটি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে এবং তৃণমূলের মতামত ও তথ্য উপেক্ষা করে নাবিলা তাসনিদকে প্রার্থী হিসেবে বহাল রাখে। উপরন্তু তিনি নিজেও ধামরাই উপজেলার কোনো স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা না করে নিজ বাসা ও অনলাইননির্ভর নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় ধামরাই উপজেলা এনসিপির সকল স্থানীয় নেতাকর্মী সর্বসম্মতিক্রমে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেন।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি ধামরাই উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী নাজমুল হক, যুগ্ম সমন্বয়কারী উজ্জল ইসলাম, সমন্বয়কারী সদস্য আশিকুর রহমানসহ দলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে ঢাকা-২০ আসনের এনসিপি মনোনীত প্রার্থী নাবিলা তাসনিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিভ করেন ইঞ্জিনিয়ার সুমন নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে নাবিলা তাসনিদের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমরা এ বিষয়ে এখন কিছু ভাবছি না। পরে আপনাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হবে।”
কেকে/এলএ