রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লা এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে রাকিব হোসেন বিশাল (৩২) নামে এক যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নাইম (২৩) ও মো. রাজিব (২১)। তাদের ধাওয়া করে তাদের আটক করা হয় এবং হামলায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জহুরী মহল্লার গাউছিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী তাসলিমা আক্তার মোহাম্মদপুর থানায় ২৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর-৮৬। রাকিব আদাবর থানার ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জহুরী মহল্লার গাউছিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সামনে কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাকিবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে আইসিইউ সাপোর্ট না পাওয়ায় শ্যামলী এলাকার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর বোন নিপা আক্তার খোলা কাগজকে মুঠোফোনে জানান, “আমার ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঢামেকে আইসিইউ না পেয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে নিতে হয়েছে।”
মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “চলতি মাসের ১০ তারিখ আদাবর এলাকায় রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে তার ওপর হামলা হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরেই ২৭ ডিসেম্বর তাকে আবার কুপিয়ে জখম করা হয়। আমরা ১৪-১৫ জনকে শনাক্ত করে মামলা দিয়েছি, কিন্তু মামলায় ২৪ জন আসামি কীভাবে হলো—সে বিষয়টি আমরা জানি না। প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন খোলা কাগজকে বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। মামলায় কতজন আসামি থাকবে তা বাদির ওপর নির্ভর করে। পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।”
মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—মো. নাইম (২৩), মো. রাজিব, মহিউদ্দিন কাইল্লা, জহির, রাসেল মিয়া, মো. হেলাল আহমেদ রাজু, মো. আক্তার হোসেন, মো. সুমন, রাজীব, গাজী বুবেদ, মো. রফিক রাজমিস্ত্রি, মো. ইমরান, মো. বাবলা, মো. মুন্না, মো. ইসলাম, মিরাজ, মো. ওলি, মো. জাফর, মো. বাচ্চু, মো. রিয়াজ, মো. আক্তার, মো. সজিব, মো. দেলোয়ার, মো. সাদ্দাম ও মো. মিজান। এছাড়া আরও ৫–৬ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, চলতি মাসের ১০ তারিখ একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাকিবের ওপর হামলা হয়। এরপর ২৭ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় একদল যুবক।
স্থানীয় যুবদল নেতারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তারা বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও কাউকে নির্মমভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করার মতো বর্বরতার কোনো জায়গা নেই। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে যাতে নিরীহ নেতাকর্মীরা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও প্রশাসনের নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
কেকে/এজে