গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)-এর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের নতুন ডিন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম। তার নিয়োগ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে এবং মেয়াদ হবে দুই বছর।
বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ২৯ ডিসেম্বর এ নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। তিনি সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. রমিজ উদ্দিন মিয়ার স্থলাভিষিক্ত হলেন।
অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও গবেষক। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় ডিগ্রি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাপ্লায়েড বায়োসায়েন্সেস বিষয়ে সর্বোচ্চ সম্মানসহ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (আইবিজিই)-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তর এবং এক্সটেনশন সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল বাংলাদেশে গমের ব্লাস্ট রোগ শনাক্ত করে, যা বৈশ্বিকভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ গবেষণার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর উদ্ভাবিত ক্রিসপার (CRISPR)-ভিত্তিক দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে ৪৮০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। গুগল স্কলার অনুযায়ী, তাঁর গবেষণাকর্ম ১৫ হাজারের বেশি বার উদ্ধৃত হয়েছে এবং তাঁর এইচ-ইনডেক্স ৬১।
তিনি আমেরিকান ফাইটোপ্যাথোলজিক্যাল সোসাইটি (এপিএস)-এর ১২০ বছরের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি ফেলো হিসেবে সম্মানিত হন। পাশাপাশি তিনি দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেস (TWAS) এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস)-এর ফেলো।
স্ট্যানফোর্ড–এলসেভিয়ার প্রকাশিত বৈশ্বিক র্যাংকিং অনুযায়ী তিনি ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাংকিং কাঠামোর আওতায় গাকৃবিকে দেশের শীর্ষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
জাপানের জেএসপিএস, জার্মানির আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট, যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট ফেলোশিপের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্তৃত গবেষণা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি বিএএস স্বর্ণপদক, ইউজিসি গবেষণা পুরস্কার, কমনওয়েলথ ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড এবং আইএসডিবি ট্রান্সফরমার্স অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
কেকে/ এমএস