ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও তার আশেপাশে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ, জাল ভোট দেওয়া ও অস্ত্র প্রদর্শন বা ব্যবহার কঠোরভাবে প্রতিরোধের নির্দেশ দিয়েছে। একইসাথে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নির্ভেজাল রাখতে প্রার্থী, এজেন্ট ও সমর্থকদের- এসব বেআইনি কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় থেকে জারি করা পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ক্যানভাস, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, অবৈধ হস্তক্ষেপ, বলপ্রয়োগ, অস্ত্র প্রদর্শন বা ব্যবহার, ভোটের গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ বেআইনি কাজ। এর বিরুদ্ধে নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আর প্রার্থীদেরও এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে হবে।’
এতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর যথাশিগগিরই সম্ভব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বৈঠকে ডেকে আনতে হবে। বৈঠকে প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টদের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২’-এর আলোকে দায়িত্ব-কর্তব্য, নির্বাচনি আইন-বিধি মেনে চলা, ব্যয় নির্বাহের সম্ভাব্য উৎস ও ব্যয়ের বিবরণী সময়মতো দাখিল নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি সন্ত্রাস, ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহার রোধে সর্বাত্মক সহযোগিতার বিষয়ে জানাতে হবে।
নির্বাচনি এজেন্ট নিয়োগের বিষয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, একজন প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার কোনো যোগ্য ভোটারকে তার নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন। তবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে, যাতে এজেন্টের নাম, পিতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ঠিকানা উল্লেখ থাকবে। প্রার্থী যেকোনো সময় লিখিতভাবে এজেন্টের নিয়োগ বাতিল বা প্রত্যাহার করে নতুন এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন। প্রার্থী যদি কাউকে এজেন্ট নিয়োগ না করেন, তাহলে তিনি নিজেই তার নির্বাচনী এজেন্ট বলে গণ্য হবেন।
পোলিং এজেন্ট নিয়োগের জন্য ধারা ২২ (১) অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট ভোটগ্রহণের আগে প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একজন করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন। পোলিং এজেন্টের নিয়োগপত্র প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। একটি ভোটকক্ষের জন্য একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন।
কেকে/এমএ