ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) গঠনের অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করেন। একই সময় মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় ও পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড়েও শিক্ষার্থীদের জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সাফওয়ান আহমেদ বলেন, “আমাদের একটাই দাবি- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারি মাসেই অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু এখনো তা হয়নি। আমরা আর সময় দিতে চাই না।”
সরকারি বাঙলা কলেজজের শিক্ষার্থী তসিফ হাসান বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট। আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বের হন। দুপুরে তারা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। এতে অংশ নেন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’ এবং ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’- এ ধরনের স্লোগান দেন।
এ সময় সড়ক অবরোধের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। ফার্মগেট থেকে সায়দাবাদগামী আসিফ সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আটকে পড়েন। তিনি বলেন, “যার যেখানে ইচ্ছা সড়ক বন্ধ করে দিচ্ছে। মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, ভোগান্তি লাঘবে উদ্যোগ নিন।”
এদিকে, শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে আজিমপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত মিরপুর সড়কে দিনভর তীব্র যানজট দেখা দেয়। পাশাপাশি মিরপুর-১, ২ ও ১০ নম্বর এলাকাতেও যান চলাচল ব্যাহত হয়। গণপরিবহন না পেয়ে অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
এর আগে গতকাল সায়েন্স ল্যাব মোড়, টেকনিক্যাল মোড় ও তাঁতীবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। একই দিনে সহপাঠী হত্যার বিচার দাবিতে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরাও ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এতে রাজধানীর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
কেকে/ আরআই