দেশে গত তিনটি নির্বাচন প্রহসনের ছিল মন্তব্য করে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে এবারের নির্বাচন হবে ফেয়ার ও ইনক্লুসিভ।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটি সত্যিকার অর্থে ফ্রি, ফেয়ার ও ইনক্লুসিভ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে। একটি সাদা, অন্যটি গোলাপি। সাদা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সকলে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। গোলাপি রঙের ব্যালটে জুলাই সনদের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেয়ার সুযোগ আছে। জনগণ যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সমর্থন করে, তবে দেশে আর প্রহসের নির্বাচন হবে না। দেশ থেকে সর্বগ্রাসী ফ্যাসিবাদ তৈরির পথ বন্ধ হবে।”
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজার জেলার আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গণভোটের কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতা শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ইমামদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অতীতে আমরা দেখেছি সরকারি দল ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করেছেন। আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে থাকলে আগামীতে কোনো সরকার দলের প্রয়োজনে ইচ্ছামাফিক সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। সংবিধানের বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল আছে এবং থাকবে। তবে এটা নিয়ে এক শ্রেণির মানুষ উদ্দেশপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার মিথ্যাচার চালাচ্ছে যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে না। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করে গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে জনগণকে বুঝাতে হবে।”
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “আমরা যখন অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব নেই তখন রিজার্ভ ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার, এখন ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগে হজ ব্যবস্থাপনায় দুই নম্বরি সিন্ডিকেট করে হাজিদের জিম্মি করার প্রবণতা ছিল। এটা আমরা জিরো পয়েন্টে নিয়ে এসেছি। এখানে আর কোনো সিন্ডিকেট কাজ করতে পারবে না।”
তিনি বলেন, “ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ঘুষ, দুর্নীতি সিন্ডিকেট ছিল, এগুলো এখন নেই। দারুল আরকাম প্রকল্প শিক্ষকের বকেয়া এক বছরের বেতনসহ একনেকে পাশ করা হয়েছে। ইমাম-খতিবদের স্বার্থ সমুন্নত রাখার জন্য মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত করে আজ গেজেট পাশ করা হয়েছে। দেশের মসজিদগুলোতে ইমাম-খতিবদের চাকরির নিশ্চয়তা ও সম্মান নেই। কমিটি বা মসজিদ মুতাওয়াল্লি যেকোনো সময় চাকরিচ্যুত করে। ফান্ড থাকলেও বেতন বৃদ্ধি করে না। উৎসব ভাতা দেওয়া হয় না।”
ইমাম-খতিবদের কল্যাণে চলমান বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে ড. খালিদ হোসেন বলেন, “সরকার নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের একটি নীতিমালা রয়েছে। সেখানে ইমাম-খতিব ও খাদেমের বেতন অত্যন্ত অপ্রতুল। এ সরকারের সময়েই বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করে মডেল মসজিদের একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। কওমি মাদরাসার মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপে বিদেশের ইউনিভার্সিটিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার স্বীকৃত কওমি বোর্ডের দাওরা শিক্ষার্থীদের কাজী পদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
আগামী নির্বাচনে কওমি আলেমদের কেনো নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি প্রশ্নের জবাবে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং, পোলিং অফিসারসের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। আগামী সরকার কওমি শিক্ষার্থীদের যেনো এ দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়—এ ব্যাপারে কার্যকরি উদ্যেগ নেওয়া হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপদেষ্টার একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) ছাদেক আহমদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানভীর হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফারুক আলম, জেলা নির্বাচন অফিসার দীপক কুমার রায় প্রমুখ।
এ অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাইযোদ্ধা, গণমাধ্যমকর্মী, ইমাম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এজে