শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) গ্রাফিতি ও বিদ্রোহী দেয়াল অঙ্কন কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহযোগিতায় টানা তিন দিনের প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে গ্রাফিতির কাজ শেষ করা হয়। এর আগে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের দেয়ালে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদীর প্রতিকৃতি অঙ্কন করা হয়। গ্রাফিতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান লেখেন। স্লোগানগুলোতে লেখা হয়— ‘Justice for Hadi’, ‘আমি চির বিদ্রোহী বীর—বিশ্ব ছড়ায়ে উঠিয়াছি একা… চির উন্নত শির!’, ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা ঢাকা’, ‘জন্মভূমি অথবা মৃত্যু’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওহিদুজ্জামান শাওন বলেন, “শহীদ উসমান হাদি দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী ইনসাফের রাজনীতি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছেন। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে খুন করে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে আঘাত করেছে। কিন্তু হাদীকে শহীদ করে তার বিপ্লবকে থামিয়ে দিতে পারেনি। শহীদ হাদীর বিপ্লবী আদর্শ দেশের প্রত্যেকটি প্রান্তরে পৌঁছে গেছে। হাদীর ইনসাফের রাজনীতি পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সহযোগিতায় গ্রাফিতিগুলো অঙ্কন করেছি।”
পবিপ্রবির ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি জান্নাতিন নাঈম জীবন বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা ও অগ্রনায়ক। ওসমান হাদি ইনসাফের লড়াইয়ে নিজের জীবন দিয়ে ন্যায়ও ইনসাফের প্রতীক হিসাবে বাংলার মানুষের বুকে অমর হয়েছেন। বাংলাদেশের নতুন ধারা প্রতিষ্ঠার সূচনা করে গেছেন। শহীদ ওসমান হাদীর স্মরণে পবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এবং পবিপ্রবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের অর্থায়নে টিএসসির দেয়ালে গ্রাফিতে অঙ্কন করছি যাতে শহীদ ওসমান হাদির মতো ইনসাফের লড়াইয়ে শিক্ষার্থীরা অগ্রগামী হয়।”
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদী গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ শুক্রবার সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৬ ডিসেম্বর সরকারের উদ্যোগে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
কেকে/ আরআই