ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি কর্তৃক আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানারআপ হয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (জিবিডিএস)।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনে (বিএফডিসি) অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) কাছে পরাজিত হয় জিবিডিএস।
বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনালের আলোচ্য বিষয় ছিল, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি।’ ছায়া সংসদে সরকারি দল এ প্রস্তাবের পক্ষে এবং বিরোধী দল বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে।
বিতর্কে অংশ নিয়ে জিবিডিএসের সাংগঠনিক সম্পাদক সামিউল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘বিতর্কের শুরু থেকেই জিবিডিএসের লক্ষ্য ছিল গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করা। সেই স্বপ্নের ধারাবাহিকতায় আজ ফাইনালে রানারআপ হয়েছি, যা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সম্মানের অর্জন। আগামী দিনের নবীন শিক্ষার্থীরা জিবিডিএসের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও উজ্জ্বল ও সমুন্নত করবে।’
জিবিডিএসের উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহ আলম বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কে রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করায় জিবিডিএসকে আন্তরিক অভিনন্দন ও সাধুবাদ জানাই। এই অভাবনীয় সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও সুনাম বৃদ্ধি করছে। জিবিডিএসের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে তারা জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরও গৌরব বয়ে আনবে। জিবিডিএসের এই অর্জনে গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত গর্বিত।’
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আজকের বিতর্ক প্রতিযোগীদের যুক্তির মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। তবে জুলাই গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সামাজিক—উভয় ধরনের পরাজয় ঘটেছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করে তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছিল। যারা মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করে দেশকে লুটপাট করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিকভাবে তাদের চূড়ান্ত পতন ঘটেছে। কিন্তু সংস্কৃতি ও ব্যবসা-অঙ্গনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সামাজিক অবস্থান এখনো রয়েছে। জুলাই গণহত্যার পর তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলেই কেবল আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হবে।’
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) নেতৃবৃন্দ এবং জিবিডিএসের সদস্য ও উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এলএ