রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন ঢাকা–১৩। মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগরের একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক সমস্যায় জর্জরিত। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে শীর্ষ দুই প্রার্থী—জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মামুনুল হক এবং বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ঢাকা–১৩ আসনে মোট ৮টি ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানায় ৫টি ওয়ার্ড (২৯, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪), আদাবর থানায় ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ও সাংগঠনিক ১০০ নম্বর ওয়ার্ড এবং শেরেবাংলা নগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত। এই আসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা মোহাম্মদপুর, যেখানে কিশোর গ্যাং, চুরি-ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ভূমি ও ফুটপাত দখলসহ নানা ধরনের অপরাধ দীর্ঘদিন ধরে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে। এলাকটিতে রয়েছে মাদকের অভয়ারণ্য।
একান্ত সাক্ষাৎকারে জামায়াত জোট প্রার্থী মামুনুল হক বলেন, নির্বাচিত হলে তার প্রথম কাজ হবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি মাদক ও ফুটপাত দখল বন্ধ করা। নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দে বসবাস উপযোগী এলাকা তৈরি করা।
তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করছি। এমপি হলে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে একটি সুষ্ঠ সমাজ গড়ে তুলব। সরকার যে দলেরই হোক না কেন, একজন এমপির নিজস্ব প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে—সেই ক্ষমতা দিয়েই আসন পরিচালনা করা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, সাধারণ নাগরিকদের তার সঙ্গে দেখা করতে কোনো তদবির করতে হবে না। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে তিনি নিজেই সরাসরি যোগাযোগ করবেন এবং নাগরিকদের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকবে। ‘বিজয়ী হলে এলাকাটিকে একটি সন্ত্রাসমুক্ত ও সুশাসনের মডেল হিসেবে গড়ে তুলব’—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বলেন, তার প্রথম অগ্রাধিকারও সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং নির্মূল। তিনি দাবি করেন, মোহাম্মদপুর এলাকায় মাদকের একাধিক অভয়াশ্রম রয়েছে—বিশেষ করে জেনেভা ক্যাম্প, রায়েরবাজার এবং চার রাস্তার মোড় সোনা মিয়া টেকি এলাকায়। ‘প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় করে এসব অপরাধ নির্মূল করা হবে বলে জানান ববি।’
সাধারণ নাগরিক সেবার বিষয়ে তিনি জানান, এমপি নির্বাচিত হলে প্রতি মাসে একটি করে উন্মুক্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে, যা হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। সেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই অংশ নিতে পারবেন এবং সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারবেন।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, গত চার মাস ধরে তিনি এলাকাটিতে সক্রিয়ভাবে সামাজিক সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাস নির্মূলে মানববন্ধন, খাল পরিষ্কার কার্যক্রম, সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে গ্যাস সমস্যার সমাধান এবং অবৈধ গ্যাস লাইন উচ্ছেদ। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণও করছেন তিনি।
সবশেষে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি এমপি হলে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো সন্ত্রাসী তৈরি হতে দেব না। সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতিতে আমার কোনো আগ্রহ নেই। ঢাকা–১৩ আসনকে একটি নিরাপদ ও সুষ্ঠ সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত ঢাকা–১৩ আসনে এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তাই প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। দুই শীর্ষ প্রার্থীর অভিন্ন প্রতিশ্রুতি ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
স্থানীয়রা খোলা কাগজকে জানান, যেকোনো দলের এমপি প্রার্থীরাই ভোটের সময় হলেই দ্বারে দ্বারে আসেন, পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয় না। দেশে এই মূহুর্তে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো না। ২৪ সালে দেশে একটি গণঅভ্যুত্থান ঘটে গেছে সেই জন্য এই মহূর্তে নির্বাচন প্রয়োজন হয়েছে। কিন্তু এলাকাটিতে বিগত সরকার একটি দীর্ঘদিসময় স্বশাসন চালিয়ে গেছে। তাদের আমরা অনেক সময় পেয়েছি অনেক সময় পাইনি। বর্তমান নির্বাচনে যেই বিজয়ী হবে তাকে কি আমরা পাবো?? মনে হয় না। এমন প্রশ্ন ছিলো আসনটির সাধারণ নাগরিকদের।
স্থানীয় নাগরীকরা জানান, আমরা এমন একজনকে চাই, যেনো তাকে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আগামী ৫ বছর তাকে পাই। আমরা কোনো চামচাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই না। সরাসরি জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলবো এমন এমপি চাই।
কেকে/ এমএস