আঞ্চলিক কথ্য ভাষায় মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে। যেমন, ‘হামাক একটা টেকা দে (রংপুর-গাইবান্ধা এলাকায়)।’ আর এটি বরিশালে বলে- ‘মোরে একটা টাহা দে’। এভাবে অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন শব্দের উচ্চারণ/ব্যবহার দেখা যায়।
আজ বরিশাল অঞ্চল থেকে একটি আঞ্চলিক কথ্য ভাষার শব্দ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। শব্দটি হলো- ছোডোহাল (শৈশবকাল/ছোট সময়ের/শিশুকাল)। এ শব্দটি বরিশালের উজিরপুরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষের মুখ থেকে যেভাবে শোনা গেছে সেভাবে সংগ্রহ হয়েছে।
ক. ছোডোহাল, ছোডোকাল, ছোডোহাইল্যা, ছোডোকাইল্যা
খ. ল্যাদাহাল, ল্যাদাকাল, ল্যাদাহাইল্যা, ল্যাদাকাইল্যা
গ. গ্যাদাহাল, গ্যাদাকাল, গ্যাদাহাইল্যা, গ্যাদাকাইল্যা
আসুন আমরা দুই-একটা বাক্য পড়ি-
১. মোরা ছোডোহালে ল্যাঙডা অইয়া ব্যার-পুহোইরে কতো ডুবাইছি।
২. ল্যাদাহাইল্যা কতা কইয়া মোরে শরম দিস না।
৩. এ গ্যাদা-এদিহে হুইন্যা যা।
গ্যাদা শব্দটির আরো ব্যবহার লক্ষ করা গেছে। মোটামুটি কিশোর বয়সিদের নাম ধরে না ডেকে ‘গ্যাদা’ হিসেবে ডাকা হয়।
৪. তোর তো ‘ল্যাদাকাইল্যা’ স্বভাব এহোনো যায় নাই।
এভাবে একটি শব্দের বহুবিধ ব্যবহার লক্ষ করা গেছে উজিরপুরের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মুখে। এ আঞ্চলিক শব্দগুলো আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে। এগুলো আমাদের সংস্কৃতির মূল উপাদান। গ্রাম্য এ সংস্কৃতির উপাদান-উপকরণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য ‘‘আমরা উজিরপুরের সন্তান (আউস)’’ দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে যাচ্ছে।
কেকে/ আরআই