আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের আওতাধীন ৯টি উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হস্তান্তর করছেন। এর আগে জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে এসব সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট উপজেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
নির্বাচনি সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাস সিল, অমোচনীয় কালি, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের লক, হেসিয়ান ব্যাগ, মোম, গানিব্যাগসহ অন্যান্য অপরিহার্য উপকরণ।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শানিয়াজ্জামান জানান, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জেলার ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে সরঞ্জাম বিতরণ করা হচ্ছে। নির্বাচনি সরঞ্জাম সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৬৮ হাজার ১২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৮ জন, নারী ভোটার ১২ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৩ জন এবং প্রবাসী ও পোস্টাল ভোটার ৩৯ হাজার ৯৬৯ জন।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন মোট ৩ হাজার ৬৬৩ জন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৬২০ জন, বিজিবি ৪৩০ জন, পুলিশ ২ হাজার ৩৮৯ জন, র্যাব ৭২ জন এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ১৫২ জন সদস্য মাঠে থাকবে। এছাড়াও গ্রাম পুলিশ ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনি এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রে ৮০৫ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৫ হাজার ১৫২ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং ১০ হাজার ৩৬৪ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগপ্রাপ্ত।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৭৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হবে।
কেকে/এলএ